‘অনুপালন’ নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চাই ‘অধিকারভিত্তিক’ সংস্কৃতি : বিচারপতি রামাসুব্রমণিয়ান
নয়াদিল্লি, ১৩ মে (হি.স.) : ‘অনুপালন-নির্ভর’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে ‘অধিকারভিত্তিক’ সংস্কৃতির দিকে এগোতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) বিচারপতি ভি. রামাসুব্রমণিয়ান। প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা : সরকার ও বেসরকারি ক
‘অনুপালন’ নয়, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চাই ‘অধিকারভিত্তিক’ সংস্কৃতি : বিচারপতি রামাসুব্রমণিয়ান


নয়াদিল্লি, ১৩ মে (হি.স.) : ‘অনুপালন-নির্ভর’ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে এসে ‘অধিকারভিত্তিক’ সংস্কৃতির দিকে এগোতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) বিচারপতি ভি. রামাসুব্রমণিয়ান।

প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা : সরকার ও বেসরকারি ক্ষেত্রের যৌথ দায়িত্ব’ শীর্ষক এক কোর গ্রুপ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “অন্যান্য শ্রমিকদের তুলনায় পরিযায়ী শ্রমিকরা অনেক বেশি সংবেদনশীল অবস্থায় থাকেন। ভাষাগত সমস্যা এবং স্থায়ী বাসস্থানের অভাব তাঁদের সংগঠিত হতে বাধা দেয়। তাই এখন শুধুমাত্র ‘নির্দেশ পালন’ করাই যথেষ্ট নয়, বরং এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রত্যেকের অধিকারকে সম্মান জানানো হবে।”

বুধবার নয়াদিল্লিতে এনএইচআরসি-র কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে নীতিগত পরিবর্তনের বদলে বাস্তব প্রয়োগ ও ব্যবস্থাগত সংস্কারের উপর জোর দেওয়া হয়। বিচারপতি রামাসুব্রমণিয়ান ১৯৭৯ সালের পরিযায়ী শ্রমিক আইন সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, বহু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা শ্রমিকদের ২৪০ দিনের যোগ্যতার সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই ছুটিতে পাঠিয়ে দেন, যাতে তাঁরা আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন।

এনএইচআরসি-র সদস্য বিচারপতি (ড.) বিদ্যুৎ রঞ্জন সারঙ্গি কড়া ভাষায় বলেন, “পরিযায়ী শ্রমিকরা যদি সময়মতো পারিশ্রমিক না পান, তবে তাঁদের ঘরছাড়া হওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়।” তিনি শ্রমিকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও একটি ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন, যাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো মৌলিক সুবিধা তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

কমিশনের মহাসচিব ভারত লাল বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮.৯ শতাংশই পরিযায়ী শ্রমিক। তিনি জানান, শ্রমিক কল্যাণমূলক ব্যবস্থার ফলে কারখানার শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা প্রায় ১.৩৮ গুণ বৃদ্ধি পায়। ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’-এর মতো প্রকল্পের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের পরিষেবা স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।

বৈঠকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার জন্য একাধিক প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে— আন্তঃরাজ্য প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য একটি ‘জাতীয় সমন্বয় পরিষদ’ গঠন, ই-শ্রম পোর্টালকে আধার, ইপিএফ ও ইএসআইসি-র সঙ্গে সংযুক্ত করা, কিউআর-ভিত্তিক পরিযায়ী পরিচয়পত্র চালু করা, কর্পোরেট রিপোর্টিংয়ে পরিযায়ী শ্রমিক সংক্রান্ত তথ্য বাধ্যতামূলক করা, শহর পরিকল্পনায় পরিযায়ী শ্রমিকদের আবাসন ও পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ন্যূনতম মজুরির পরিবর্তে ‘জীবনধারণ উপযোগী মজুরি’-র মানদণ্ড চালু করা।

এছাড়াও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, শুধু বড় তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মধ্যেই নিয়ম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদেরও সুরক্ষার আওতায় আনা জরুরি।

এই বৈঠকে সেবি, এমএসএমই মন্ত্রক এবং বিভিন্ন শিল্প সংগঠন যেমন এফসিসিআই ও সিআইআই-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande