(লিড) অকালেই প্রয়াত মুলায়মের কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক, শোকের আবহ সপা শিবিরে
লখনউ, ১৩ মে (হি.স.) : মাত্র ৩৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক যাদব। বুধবার ভোরে লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর অকাল মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রতীক ছিলেন সমাজবাদী পার্ট
(লিড) অকালেই প্রয়াত মুলায়মের কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক, শোকের আবহ সপা শিবিরে


লখনউ, ১৩ মে (হি.স.) : মাত্র ৩৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র প্রতীক যাদব। বুধবার ভোরে লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর অকাল মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রতীক ছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা গুপ্তার পুত্র। তাঁর স্ত্রী অপর্ণা যাদব, যিনি বর্তমানে বিজেপি নেত্রী এবং উত্তর প্রদেশ রাজ্য মহিলা কমিশনের সহ-সভাপতি। সম্প্রতি স্ত্রী অপর্ণার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের খবর নিয়েও তিনি সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন।

জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই প্রতীক অসুস্থ ছিলেন। মঙ্গলবার রাতেও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালের অধিকর্তা জিপি গুপ্তা জানান, ভোর ৫টা নাগাদ তাঁরা তাঁর অসুস্থতার খবর পান। এরপর চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর বাড়িতে যায়। শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক থাকায় দ্রুত তাঁকে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ৫টা ৫৫ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, “প্রতীক যাদবের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঈশ্বর তাঁর আত্মার শান্তি দান করুন।”

প্রতীক যাদব রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না হলেও তিনি পরিবারের পাশে থাকতেন। সপা প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল। মুলায়ম সিং যাদব জীবিত থাকাকালীন পরিবারে রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও প্রতীক ও অখিলেশের মধ্যে কখনও তিক্ততা ছিল না বলে জানা যায়।

প্রতীক ব্যবসাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি লখনউয়ে “দ্য ফিটনেস প্ল্যানেট” নামে একটি বড় জিম খুলেছিলেন এবং রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করেছিলেন। তিনি পশুপালন ও গরু সেবার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং “জীব আশ্রয়” নামে একটি সংস্থা চালাতেন।

প্রতীক যাদব ও অপর্ণা যাদব আগে স্কুলজীবনের বন্ধু ছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরিবারগুলির সম্মতিতে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সাইফাইয়ে তাঁদের বিবাহ হয়। সেই বিবাহে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

বিবাহের পর অপর্ণা সমাজবাদী পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি ২০১৭ সালে লখনউ ক্যান্ট আসন থেকে সাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে বিজেপির রীতা বহুগুণা যোশীর কাছে পরাজিত হন। পরে ২০২২ সালের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি উত্তর প্রদেশ রাজ্য মহিলা কমিশনের সহ-সভাপতি।

প্রতীক যাদবের মৃত্যু ভোরে কিচেনে পড়ে যাওয়ার পর ঘটে বলে জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, তাঁর মৃত্যু কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হয়েছে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবস্থার অবনতি হয় এবং বড় রক্ত জমাট (ব্লাড ক্লট) ফুসফুসের ধমনীতে আটকে যায়। এতে শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটে। হৃদয়ের ডান অংশে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সিভিল হাসপাতাল জানিয়েছে, বিষক্রিয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিসেরা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রতীক যাদবের মৃত্যুকে ঘিরে সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক রবিদাস মেহরোত্রা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তদন্ত জরুরি।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়নি।

বিবাহের পর প্রতীক ও অপর্ণার সম্পর্কে টানাপোড়েনের খবর মাঝেমধ্যেই সামনে এসেছে। কিছু সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যদিও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

প্রতীক যাদব সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও সপা প্রধান অখিলেশ যাদবের সমর্থক ছিলেন। তাঁকে কখনও প্রকাশ্যে দলের বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি।

প্রতীক যাদবের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এক্স মাধ্যমে শোকবার্তায় তিনি জানান, “উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের পুত্র এবং উত্তর প্রদেশ রাজ্য মহিলা কমিশনের সহ-সভাপতি অপর্ণা যাদবের স্বামী প্রতীক যাদবের আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল।”

উল্লেখ্য, প্রতীক দীর্ঘদিন ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

প্রতীক যাদব মুলায়ম সিং যাদবের দ্বিতীয় স্ত্রী সাধনা গুপ্তার পুত্র। তিনি বিজেপি নেত্রী অপর্ণা যাদবের স্বামী। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও প্রতীক সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তিনি মূলত ব্যবসা ও ফিটনেস জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। লখনউ ও আশপাশ এলাকায় তাঁর রিয়েল এস্টেট ও ফিটনেস সংক্রান্ত ব্যবসা ছিল। পাশাপাশি তিনি পশুপ্রেমী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

প্রতীক যাদবের আকস্মিক মৃত্যুতে লখনউ থেকে সেফাই পর্যন্ত শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর বাসভবনে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande