
নয়াদিল্লি, ১৩ মে (হি.স.) : গ্রেট নিকোবর মেগা ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্পে বনাধিকার আইন, ২০০৬ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রী জুয়েল ওরামকে চিঠি দিলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। তাঁর অভিযোগ, প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
চিঠিতে জয়রাম রমেশ উল্লেখ করেছেন, চলতি বছরের ১ মে কেন্দ্র সরকার প্রকাশিত ‘গ্রেট নিকোবর প্রজেক্ট : এফএকিউ’-এ দাবি করা হয়েছিল যে, প্রকল্পে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষার জন্য সমস্ত আইনি ও নীতিগত প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়েছে। তিনি এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করে জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রককে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বনাধিকার আইন, ২০০৬ অনুযায়ী গ্রামসভার সম্মতি বাধ্যতামূলক। বনভূমি হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে গ্রামসভাকে আলোচনা করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের অধিকার নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার পরেই সম্মতি দেওয়া যায়। নিয়ামগিরি মামলায় সুপ্রিম কোর্টও এই প্রক্রিয়াকে বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করেছিল।
জয়রাম রমেশের অভিযোগ, এই প্রকল্পের জন্য ১৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্যাম্পবেল বে, লক্ষ্মীনগর ও গোবিন্দনগরে বসবাসকারী অ-আদিবাসী সম্প্রদায়ের গ্রামসভা আয়োজন করা হয় এবং সেই প্রস্তাবগুলিকেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের সম্মতি হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া বনাধিকার আইনের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, নিকোবারি ও শোমপেন সম্প্রদায়েরই ঐতিহ্যগত ও সামষ্টিক অধিকার রয়েছে, অথচ তাদের প্রকৃত সম্মতি নেওয়া হয়নি। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৩ আগস্ট ২০২২-এ লিটল ও গ্রেট নিকোবর ট্রাইবাল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দেওয়া অনাপত্তি শংসাপত্রকে গোটা নিকোবারি সম্প্রদায়ের সম্মতি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদিও পরে ওই চেয়ারম্যান নিজেই সেই অনাপত্তি শংসাপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
জয়রাম রমেশ দাবি করেন, শোমপেন সম্প্রদায়ের হয়ে আন্দামান আদিম জনজাতি উন্নয়ন সমিতির এক আধিকারিকের সম্মতি দেওয়া আইনসম্মত নয়। পাশাপাশি আন্দামান আদিম জনজাতি উন্নয়ন সমিতি এবং প্রকল্পের প্রস্তাবক আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপ উন্নয়ন নিগমের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ১৮ আগস্ট ২০২২-এ নিকোবর জেলার ডেপুটি কমিশনার যে শংসাপত্র জারি করেছিলেন, তাতে দাবি করা হয়েছিল যে বনাধিকার আইনের অধীনে সমস্ত অধিকার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। অথচ বাস্তবে ওই আইনের অধীনে কমিটি গঠনই প্রথমবার হয়েছিল ২০২২ সালের জুলাই মাসে এবং অধিকার নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াই তখনও শুরু হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এফএকিউ-তে জারাওয়া নীতির উল্লেখ করা হলেও জারাওয়া সম্প্রদায় আদৌ গ্রেট নিকোবর দ্বীপে বাস করে না। সুনামি ত্রাণ কলোনিতে বসবাসকারী নিকোবারি সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ঐতিহ্যগত জমিতে ফেরার দাবি জানালেও প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
জয়রাম রমেশ কেন্দ্রীয় জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, আন্দামান ও নিকোবর প্রশাসনকে ১৮ আগস্ট ২০২২-এর শংসাপত্র, ১৩ আগস্ট ২০২২-এর উপ-বিভাগীয় স্তরের কমিটির কার্যবিবরণী এবং ১২ আগস্ট ২০২২-এর তথাকথিত গ্রামসভা প্রস্তাব প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হোক। তাঁর দাবি, বনাধিকার আইন, ২০০৬-কে তার নির্ধারিত বিধান ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে কার্যকর করতে হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য