
নাগপুর, ১৩ মে (হি.স.) : নাগপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বুধবারের বৈঠকে ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (এএআই) সেই জমির লিজের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা আগে মিহান ইন্ডিয়া লিমিটেড (এমআইএল)-কে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে আগামী ৩০ বছরের জন্য নাগপুর বিমানবন্দরের পরিচালনা ও উন্নয়নের দায়িত্ব জিএমআর গোষ্ঠীর সহযোগী সংস্থা জিএমআর নাগপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট লিমিটেডের (জিএনআইএএল) হাতে তুলে দেওয়ার পথ পরিষ্কার হল।
জিএমআর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে নাগপুর বিমানবন্দরকে বিশ্বমানের পরিকাঠামোয় গড়ে তোলা এবং মধ্য ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান ও কার্গো কেন্দ্র হিসেবে উন্নীত করার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে ৩ কোটি পর্যন্ত বাড়ানো হবে। বর্তমানে টার্মিনালের বার্ষিক ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ লক্ষ যাত্রী। প্রথম পর্যায়ে অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে, যার বার্ষিক ধারণক্ষমতা হবে ৪০ লক্ষ যাত্রী। পাশাপাশি ৪ হাজার মিটার দীর্ঘ নতুন রানওয়ে তৈরি করা হবে। বর্তমানে থাকা ৩২০০ মিটার রানওয়েকেও বাড়িয়ে ৩৬০০ মিটার করা হবে।
নাগপুর বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। সে সময় এএআই এবং মহারাষ্ট্র এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (এমএডিসি) যৌথভাবে মিহান ইন্ডিয়া লিমিটেড গঠন করে। এতে এএআই-এর অংশীদারি ছিল ৪৯ শতাংশ এবং এমএডিসি-র ৫১ শতাংশ। পরে ২০১৬ সালে পিপিপি মডেলে বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য বৈশ্বিক দরপত্র আহ্বান করা হয়, যেখানে জিএমআর এয়ারপোর্টস সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে উঠে আসে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর এমআইএল ও জিএমআরের মধ্যে রেয়াত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
মিহান প্রকল্পের আওতায় নাগপুরকে দেশের অন্যতম প্রধান এয়ার কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রসারণের পর বছরে প্রায় ৯ লক্ষ টন কার্গো পরিবহণের ক্ষমতা তৈরি হবে বলে অনুমান। এর ফলে কৃষিপণ্য, ওষুধশিল্প ও উৎপাদন শিল্প বিশেষভাবে লাভবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে নাগপুর থেকে মুম্বই, দিল্লি, পুণে-সহ কয়েকটি শহর এবং কাতার ও শারজাহের উদ্দেশে সরাসরি বিমান পরিষেবা রয়েছে। সম্প্রসারণের পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উড়ানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য