সুরাটে কাপড়ের কারখানা থেকে ৯১ জন শিশু শ্রমিক উদ্ধার
সুরাট, ১৩ মে (হি.স.): গুজরাটের সুরাটে শিশু শ্রম ও মানবপাচার রোধে প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের যৌথ অভিযানে বড় সাফল্য মিলেছে। শহরের একটি কাপড়ের কারখানায় হানা দিয়ে ৯১ জন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে ছো
সুরাটে কাপড়ের কারখানা থেকে ৯১ জন শিশু শ্রমিক উদ্ধার


সুরাট, ১৩ মে (হি.স.): গুজরাটের সুরাটে শিশু শ্রম ও মানবপাচার রোধে প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের যৌথ অভিযানে বড় সাফল্য মিলেছে। শহরের একটি কাপড়ের কারখানায় হানা দিয়ে ৯১ জন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির বয়স মাত্র ৭ বছর।

বুধবার জানা গেছে, শিশুদের খুব কম মজুরিতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করানো হতো। অভিযান টের পেতেই কারখানার মালিক ও মানবপাচার চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়।

উদ্ধার হওয়া শিশুদের বেশিরভাগই রাজস্থানের জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা থেকে আনা হয়েছিল। পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের কিছু শিশুও রয়েছে। সবাইকে শিশু কল্যাণ কমিটির সামনে পেশ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গায়ত্রী সেবা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। এনসিপিসিআর, অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট, রাজস্থান পুলিশ, সুরাট পুলিশ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

বুধবার সংস্থার পরিচালক ডা. শৈলেন্দ্র পাণ্ডিয়া জানান, শিশুদের খোঁজ পেয়ে দলটি একটি তালাবদ্ধ ভবনে পৌঁছায়। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট শিশুদের দিয়ে কাপড় কারখানায় শ্রম করানো হচ্ছে। অনেকেই আতঙ্কিত অবস্থায় ছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, শিশুদের দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ করানো হতো এবং সন্ধ্যার পরই ভবনের দরজা খোলা হতো, যাতে বাইরের কেউ তাদের উপস্থিতি জানতে না পারে। শিশুদের কাছাকাছি এলাকায় অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রাখা হতো।

মুক্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে রাজস্থানের উদয়পুরের দুই ভাইও রয়েছে, যাদের বয়স যথাক্রমে ৮ ও ১০ বছর। কিছু শিশু গত ৩–৪ বছর ধরে সেখানে কাজ করছিল বলে জানা গেছে।

শিশু অধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে শিশু পাচার ও শিশু শ্রমের চক্র কতটা সংগঠিতভাবে কাজ করছে। এ ধরনের ঘটনা রুখতে কড়া নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande