প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তার প্রভাবে উজ্জয়িনীতে এক বাসে সিংহস্থ পরিদর্শনে আধিকারিকরা
ভোপাল/উজ্জয়িনী, ১৩ মে (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -র জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব-এর নির্দেশের পর এবার সেই পথে হাঁটল উজ্জয়িনী জেলা প্রশাসনও। বুধবার সিংহস্থ-২০২৮ মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে একাধিক বিলাসব
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তার প্রভাবে উজ্জয়িনীতে এক বাসে সিংহস্থ পরিদর্শনে আধিকারিকরা


ভোপাল/উজ্জয়িনী, ১৩ মে (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -র জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব-এর নির্দেশের পর এবার সেই পথে হাঁটল উজ্জয়িনী জেলা প্রশাসনও। বুধবার সিংহস্থ-২০২৮ মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে একাধিক বিলাসবহুল সরকারি গাড়ির বদলে একটি মাত্র ‘ট্রাভেলার বাস’-এ চেপে পরিদর্শনে বেরোলেন শীর্ষ আধিকারিকরা।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আহ্বানের পর মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজের কনভয়ে ন্যূনতম সংখ্যক গাড়ি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রীদেরও কম সংখ্যক গাড়ি ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও গণপরিবহণ ব্যবহারের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার সকালে উজ্জয়িনী বিভাগের কমিশনার ও সিংহস্থ মেলা আধিকারিক আশিস সিং, জেলাশাসক রোশন কুমার সিং, পুর কমিশনার অভিলাষ মিশ্র, উজ্জয়িনী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিইও সন্দীপ সোনি, তহসিলদার আলোক চোরে, জলসম্পদ দফতরের ইই ময়ঙ্ক সিং, যোগেশ বিরলা, অবনেন্দ্র সিং, ট্রাফিক ডিএসপি দিলীপ সিং পরিহার-সহ মোট ১৫ জন আধিকারিক একসঙ্গে বাসে চেপে সিংহস্থ মেলার জন্য তৈরি হওয়া ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘাট এলাকা পরিদর্শনে যান।

আধিকারিকরা প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা হেঁটে ঘুরে প্রবেশ পথের রাস্তা ও ঘাটের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন।

গত এক সপ্তাহ ধরে সিংহস্থ-২০২৮ উপলক্ষে চলা বিভিন্ন কাজ নিয়মিত পরিদর্শন করছিলেন আধিকারিকরা। আগে কমিশনার, জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, এসডিএম, তহসিলদার, এসডিও, পিডব্লিউডি ও জলসম্পদ দফতরের আধিকারিকরা আলাদা আলাদা গাড়িতে যেতেন। এবার একসঙ্গে যাওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রায় ১৫টি গাড়ির কনভয় ১৬ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে প্রতিদিন প্রায় ৬,৭৫০ টাকার জ্বালানি খরচ হত। বুধবার ১৫ জন আধিকারিক একসঙ্গে একটি বাসে চেপে ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। এতে মাত্র আড়াই লিটার ডিজেল খরচ হয়েছে, যার মূল্য ২৫০ টাকারও কম। যদিও বাসটির দৈনিক ভাড়া ৪,১০০ টাকা, তবুও বহু গাড়ির কনভয়ের তুলনায় তা অনেক সস্তা।

মেলা আধিকারিক আশিস সিং বলেন, “এই উদ্যোগে সরকারি অর্থ ও মূল্যবান জ্বালানির অপচয় রোখা যাবে। দীর্ঘ গাড়ির কনভয় না থাকায় শহরে যানজটও কমবে। পাশাপাশি একসঙ্গে সফর করায় আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয় ও দলগত মানসিকতা আরও মজবুত হবে।”

জেলাশাসক রোশন কুমার সিংও এই উদ্যোগকে অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন। প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপ পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande