
পান্না, ২৬ মে (হি.স.) : মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলার অজয়গড় উন্নয়ন ব্লকের বিহারপুরওয়ার নয়াপুরওয়া গ্রামে কুয়ো খননের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে একটি খেতে কুয়ো খোঁড়ার কাজ চলাকালীন আচমকাই ধসে পড়ে ভেজা মাটি। মাটির নীচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান পাঁচ শ্রমিক। খননের মধ্যে তিন জন একই পরিবারের সদস্য।
জানা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা বিন্নু অহিরওয়ারের জমিতে গত প্রায় দশ দিন ধরে সাত জন শ্রমিক কুয়ো খননের কাজ করছিলেন। মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ তাঁদের মধ্যে দু’জন শ্রমিক জল খাওয়ার জন্য কুয়ো থেকে উপরে উঠে আসেন। ঠিক সেই সময় কুয়োর ভেজা ও দুর্বল মাটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। গভীরে কাজ করা পাঁচ শ্রমিক মুহূর্তের মধ্যে মাটির নীচে চাপা পড়ে যান।
ঘটনার পর গ্রামবাসীরা দ্রুত প্রশাসনকে খবর দেন এবং জেসিবি মেশিন এনে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর একে একে পাঁচ শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মৃতদের নাম আশিস যাদব, রাজকুমার যাদব, রামপাল যাদব, চুন্নু যাদব ও চুনবাদ পাল। এঁদের মধ্যে আশিস, রাজকুমার, রামপাল এবং চুন্নু যাদব একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসডিইআরএফ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার তিন ঘণ্টা পর প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তার আগেই গ্রামবাসীরা নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালান। তাঁদের দাবি, সময়মতো প্রশাসন পৌঁছলে হয়তো শ্রমিকদের বাঁচানো সম্ভব হত।
মৃত শ্রমিকদের আত্মীয় অভিযোগ, গত বছরের খননের পর থেকেই কুয়োটি বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। শ্রমিকেরা সেখানে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় সাধারণ মজুরি ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছিল। অর্থের প্রলোভনেই শ্রমিকেরা কাজে নেমেছিলেন বলে দাবি তাঁর।
ঘটনার খবর পেয়ে পান্নার জেলাশাসক ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজের তদারকি করেন এবং মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, গোটা ঘটনার তদন্ত করা হবে এবং কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য