ইউসিসি কোনও ধর্মীয় রীতি বা প্রথায় হস্তক্ষেপের বিষয়ও নয় : বিধানসভায় বিজেপির পীযূষ
গুয়াহাটি, ২৭ মে (হি.স.) : ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কোনও ধর্মের ওপর আক্রমণ নয়, এটি কোনও ধর্মীয় রীতি বা প্রথায় হস্তক্ষেপ করার বিষয়ও নয়, আজ বুধবার ষোড়শ অসম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে কথাগুলি বলেছেন বিজেপি-বিধায়ক পীযূষ হাজরিকা। ‘অভিন্ন দেওয়ানি
অসম বিধানসভায় বিজেপি-বিধায়ক পীযূষ হাজরিকা


গুয়াহাটি, ২৭ মে (হি.স.) : ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কোনও ধর্মের ওপর আক্রমণ নয়, এটি কোনও ধর্মীয় রীতি বা প্রথায় হস্তক্ষেপ করার বিষয়ও নয়, আজ বুধবার ষোড়শ অসম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে কথাগুলি বলেছেন বিজেপি-বিধায়ক পীযূষ হাজরিকা।

‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, অসম ২০২৬’ বা ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (ইউসিসি) বিলের ওপর বিতর্কে অংশগ্রহণ করে বক্তব্য পেশ করছিলেন বিধায়ক পীযূষ হাজরিকা। বিলের পক্ষে বহু যুক্তি প্রদর্শন করে জোরালো সওয়াল করে পীযূষ বলেন, বহুবিবাহের অনুমতি প্রদানকারী আইন সমতার নীতির বিরুদ্ধে, তা বাতিল হওয়া উচিত।

বিধায়কের প্রশ্ন, বলেন, ‘মুসলিমদের জন্য কেন বিয়ের আলাদা আইন থাকবে?’ ইউসসি কার্যকর করার পক্ষে মত প্রকাশ করে বহুবিবাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনও ব্যক্তি যদি বর্তমান স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া একাধিক বিয়ে করেন, তা-হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এক ব্যক্তি স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কী করে চার নারীকে বিয়ে করতে পারেন ? যদি তিনি প্রথম স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন, পরে দ্বিতীয় স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া তৃতীয় বিয়ে করেন এবং প্রথম তিন স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া চতুর্থ বিয়ে করেন, তা-হলে কী হওয়া উচিত? তাঁকে সরাসরি জেলে পাঠানো উচিত।’

হাজরিকা দাবি করেন, সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য যে আইন প্রয়োজন, তা সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, একজন পুরুষ যাতে চারটি বিয়ে করতে না পারেন, তার জন্য রাজ্যে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা থাকা দরকার।

তিনি বলেন, ‘পবিত্র এই সদনে দাঁড়িয়ে আমাদের স্পষ্টভাবে বলতে হবে যে সমতা প্রতিষ্ঠাকারী আইনই সঠিক আইন।’ প্রশ্ন করেন, ‘কে এই দাবি ছড়াচ্ছে যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড ধর্মবিরোধী?’ ইউসিসি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে বলে যে সমালোচনা হচ্ছে, তা খারিজ করেন পীযূষ। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তাবিত আইনটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয়, দেওয়ানি বিষয়ে কাজ করবে।

পীযূষ হাজরিকা বলেন, বিলটি মূলত বহুবিবাহ, বিয়ে, উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ এবং সম্পত্তির অধিকারের মতো বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে। এই বিলের উদ্দেশ্য এটাই। অসম সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, প্রস্তাবিত ইউসিসি-র লক্ষ্য হলো সমতা ও সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande