
কলকাতা, ২৭ মে (হি.স.) : বহুতল আবাসন নির্মাণের নামে জমির মালিকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে কলকাতার একটি নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্তের গতি বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার ইডির নোটিশ পেয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সিজিও কমপ্লেক্সের দফতরে হাজিরা দেন সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থার প্রধান মেনকা সিং। ভবানীপুরের ৮১ বছর বয়সী প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের পরেই এই মামলায় তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। অভিযোগ, পৈতৃক জমি দেওয়া সত্ত্বেও তাঁকে প্রতিশ্রুতি মতো ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি এবং তিনি বর্তমানে গৃহহীন।
জানা গেছে, প্রবীর মুখোপাধ্যায় তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি একটি প্রমোটার গোষ্ঠীকে দিয়েছিলেন, যেখানে ইতিমধ্যেই বহুতল ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ, ব্যবসায়ী জয় কামদার তাঁকে ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করা হয়নি। বৃদ্ধ দম্পতি বর্তমানে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
সূত্র মারফত জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ইডি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এই সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখেছেন। এই পুরো ঘটনায় আর্থিক প্রতারণা এবং সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
এরই মাঝে, গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতা দরবারে’ পৌঁছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছিলেন প্রবীর মুখোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, গ্রেফতার হওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জয় কামদার তাঁকে ফ্ল্যাট দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে এর বদলে উল্টে ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। আদালতকে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছিল, সে কম দামে জমি ও সম্পত্তি দখলকারী একটি বড় চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এই তদন্তেই ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং পুলিশ আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নামও উঠে এসেছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি