বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে নষ্ট চাষজমি, সরকার বদলের পর মুখ খুললেন গলসীর কৃষকরা
দুর্গাপুর, ২৭ মে (হি.স.) : জোর করে চাষের জমির উপর রাস্তা তৈরি করে সেই রাস্তা দিয়েই দিনের পর দিন চলেছে ওভারলোড বালি বোঝাই লরি ও ডাম্পার। তার জেরে বিঘার পর বিঘা তিন ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেলেও দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সুবিচার পাননি কৃষকরা
বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে নষ্ট চাষজমি, সরকার বদলের পর মুখ খুললেন গলসীর কৃষকরা


দুর্গাপুর, ২৭ মে (হি.স.) : জোর করে চাষের জমির উপর রাস্তা তৈরি করে সেই রাস্তা দিয়েই দিনের পর দিন চলেছে ওভারলোড বালি বোঝাই লরি ও ডাম্পার। তার জেরে বিঘার পর বিঘা তিন ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেলেও দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সুবিচার পাননি কৃষকরা। উল্টে অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের চোখরাঙানির মুখে চুপ থাকতে বাধ্য হতে হয়েছিল তাঁদের। তবে সরকার বদলের পর এবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা। বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার এমনই ছবি সামনে এসেছে পূর্ব বর্ধমানের গলসী-১ ব্লকের বুদবুদ থানার সোদপুর এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দামোদর নদের পাশে গলসী-১ ব্লকের সোদপুর সংলগ্ন এলাকায় একটি বৈধ বালিঘাট থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে বেআইনি উপায়ে বালি তোলার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, গ্রীন ট্রাইবুনালের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে ছাঁকনি মেশিন বসিয়ে অবাধে বালি উত্তোলন চলেছে। পাশাপাশি ঘাট থেকে অতিরিক্ত বালি বোঝাই করে লরি ও ডাম্পার চলাচল করছে।এই ওভারলোড গাড়ি চলাচলের ফলে সোদপুর মৌজার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ। বুধবার স্থানীয় কৃষকদের দাবি করেন , প্রভাব খাটিয়ে চাষের জমির উপর ছাই ফেলে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, যাতে বালির গাড়ি সহজে যাতায়াত করতে পারে। এর ফলে বহু জমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।এদিন ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক পরেশনাথ মণ্ডল জানান, সোদপুর মৌজার একাধিক দাগ ও খতিয়ানের প্রায় ১৬ বিঘা জমি তাঁর রয়েছে। অভিযোগ, জোর করে সেই জমির উপর রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে পুলিশ, বিএলআরও এবং ব্লক প্রশাসনের কাছে বহুবার অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু কোনও বিচার পাইনি। বরং তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের ভয় দেখানো সহ্য করতে হয়েছে। চাষের জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “মুখ বন্ধ করে অপেক্ষা করছিলাম, কবে সরকার বদলাবে। এখন নতুন সরকার আসার পর সুবিচারের আশায় আবার অভিযোগ জানিয়েছি। ১৫ বছরে আমার জমির যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ চাই। জমিগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে।”পরেশনাথ মণ্ডলের মতো আরও বহু কৃষকের জমি নষ্ট হয়ে কার্যত বন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু কৃষিজমিই নয়, সোদপুর-নিমডাঙা এলাকার সেচ ক্যানেলের পাশের রাস্তারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেখানে ১০ টন ভারবাহী যান চলাচলের অনুমতি রয়েছে, সেখানে ৪০ থেকে ৫০ টন বালি বোঝাই লরি অবাধে চলাচল করছে। এর ফলে ক্যানেলের পাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, ক্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হলে গলসী-১ ও গলসী-২ ব্লকের কয়েকশো হেক্টর জমিতে সেচের জল পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ধানচাষে। অভিযোগ, সেচ দফতর বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও কার্যত কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।তবে মঙ্গলবার নতুন করে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর আপাতত বালি বোঝাই গাড়ির যাতায়াত বন্ধ হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।এ প্রসঙ্গে বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, “নতুন সরকার আসার পর মানুষ ভয় কাটিয়ে মুখ খুলতে পারছেন। দীর্ঘদিনের মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে এখন সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে সামিল হচ্ছেন এবং সুবিচারের দাবি জানাচ্ছেন।”

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande