পুলিশের মদতে চলছে চোরাই তেলের কারবার! কাঁকসা-বুদবুদে পার্কিংয়ের আড়ালে বেআইনি ডিপোর রমরমা
দুর্গাপুর, ২৮ মে (হি.স.) : একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার পরও হুঁশ ফেরেনি। পার্কিং ব্যবসার আড়ালে এখনও অবাধে চলছে চোরাই জ্বালানি তেলের কারবার। জাতীয় সড়কের ধারে ঝুঁকি নিয়ে গড়ে উঠেছে একাধিক বেআইনি তেল ডিপো। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে কাঁকসার রা
পুলিশের মদতে চলছে চোরাই তেলের কারবার! কাঁকসা-বুদবুদে পার্কিংয়ের আড়ালে বেআইনি ডিপোর রমরমা


দুর্গাপুর, ২৮ মে (হি.স.) : একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার পরও হুঁশ ফেরেনি। পার্কিং ব্যবসার আড়ালে এখনও অবাধে চলছে চোরাই জ্বালানি তেলের কারবার। জাতীয় সড়কের ধারে ঝুঁকি নিয়ে গড়ে উঠেছে একাধিক বেআইনি তেল ডিপো। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে কাঁকসার রাজবাঁধ, বিলপাড়া, চারের মাইল এবং বুদবুদের কোটা মোড় ও তিলডাঙ মোড় এলাকায়। অভিযোগ, পুলিশের মদতেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। সরকার বদলালেও বদলায়নি চিত্র।বুধবার স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ট্যাঙ্কার পার্কিংয়ের নামে গজিয়ে উঠেছে বেআইনি তেল ডিপো। চালাঘর, গ্যারেজ কিংবা সবুজ কাপড়ে ঘেরা অস্থায়ী ঘরের ভিতরে মজুত রাখা হচ্ছে হাজার হাজার লিটার ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি। কোথাও ব্যারেলে, কোথাও আবার বিশাল ফাইবার ট্যাঙ্কে জমা রাখা হচ্ছে তেল। পরে সেখান থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে তা বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য, বছরখানেক আগেই কাঁকসার বীরুডিহা বায়ুসেনা ঘাঁটির কাছে একটি অবৈধ তেল ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তারও আগে ২০২২ সালের মার্চ মাসে বিরুডিহায় পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন লাগে। সেই ঘটনায় বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। এছাড়াও ২০১৮ সালে অবৈধ তেল মজুতের একটি গ্যারেজে আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছিল এক ব্যক্তির। তবুও বন্ধ হয়নি এই বেআইনি ব্যবসা।অভিযোগ, অগ্নিনির্বাপক ও বিস্ফোরক দফতরের অনুমতি ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চলছে তেল মজুত ও বিক্রির কাজ।

রাজবাঁধ এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও ভারত পেট্রোলিয়ামের ডিপো রয়েছে। সম্প্রতি তেল চুরি রুখতে ওই সংস্থাগুলি অত্যাধুনিক ই-লকিং ও জিপিএস মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে। ডিপো থেকে ট্যাঙ্কারে তেল ভরার পর নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ডে লক করা হয় এবং নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্প ছাড়া অন্য কোথাও তা খোলা যায় না। পাম্পে পৌঁছলে মালিকের মোবাইলে ওটিপি আসে, সেই ওটিপি দিলে তবেই লক খোলে।

তবে প্রশ্ন উঠছে, এত কড়া প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চুরি হচ্ছে জ্বালানি তেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে ট্যাঙ্কারের জিপিএসের ব্যাটারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফলে সিস্টেমে গাড়ি ঠিক রুটেই চলছে বলে দেখায়। এরপর ট্যাঙ্কারের ঢাকনার উপর থাকা মোটা লোহার রড গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে বা বাঁকিয়ে টুলু পাম্প বসিয়ে তেল বের করে নেওয়া হয়। পরে আবার সেই রড জুড়ে দেওয়া হয়।জাতীয় সড়কের ধারে রাজবাঁধ, বিরুডিহা, কোটা মোড়, তিলডাঙ মোড়, বিলপাড়া ও চারের মাইল এলাকায় অন্তত ১৫টিরও বেশি পার্কিংয়ের আড়ালে এই চোরাই তেলের কারবার চলছে বলে অভিযোগ। বিলপাড়া এলাকায় কিছু গ্যারেজকে বাইরে থেকে টায়ার পাম্প বা গ্রিজিং সেন্টারের মতো সাজিয়ে ভিতরে তেল কাটিংয়ের কাজ চালানো হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।স্থানীয়দের আশঙ্কা, জনবহুল এলাকায় এবং বায়ুসেনা ঘাঁটির কয়েকশো মিটার দূরে এভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি মজুত থাকায় যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে বিস্ফোরক দফতর ও দমকলের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। যদিও এ বিষয়ে দমকল বিভাগের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা অভিযোগ করেন, “পূর্বতন সরকারের আমলে তৃণমূলের মদতেই তেল চুরি, বালি চুরি, কয়লা চুরি-সহ নানা বেআইনি কাজ চলত। এখন নতুন সরকার এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, কোনও মাফিয়ারাজ চলবে না। এসব অবৈধ কারবার বন্ধ করা হবে।”

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande