
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ২৭ মে (হি.স.) : দুই দিনের বর্ষণের জেরে খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদ এলাকার একাধিক জায়গায় জলমগ্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আকাশে এখনও ঘন মেঘের আনাগোনা থাকায় নতুন করে বৃষ্টির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে নিচু এলাকাগুলিতে জল নিষ্কাশনের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার বৃষ্টির মধ্যেই জলমগ্ন এলাকাগুলি সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের চেয়ারম্যান রূপক সরকার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুর পরিষদের অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও কর্মীরা। পুর এলাকার এক, দুই এবং আট নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা ঘুরে দেখেন তাঁরা। কোথায় কি ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখা হয়।
পরিদর্শনের সময় চেয়ারপার্সন রূপক সরকার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জানান, এক ও দুই নম্বর ওয়ার্ডে জল প্লাবিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ জাতীয় সড়ক নির্মাণের চলমান কাজ। তাঁর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের সময় বহু জায়গায় ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আগামী এক দুই দিনের মধ্যেই জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে, পুর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় জল নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখতে সকাল থেকেই পুর পরিষদের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। কোথাও জমে থাকা আবর্জনা সরানো, কোথাও বন্ধ ড্রেন পরিষ্কার করার কাজ চলতে দেখা যায়।
তবে পরিস্থিতির জন্য একাংশ সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকেও দায়ী করেছেন পুর চেয়ারপার্সন। তাঁর বক্তব্য, অনেকেই বাড়িঘরের আবর্জনা নির্বিচারে ড্রেনে ফেলে দেওয়ায় নিকাশি ব্যবস্থা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং জল জমার সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। তিনি সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, প্রতি বর্ষাতেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ