
কলকাতা, ২৮ মে (হি.স.) : বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তদন্তের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরেই দুর্ঘটনাস্থল অর্থাৎ গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্কে পরিচালকের স্ত্রীর আবাসনে পৌঁছয় রাজ্য ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল। বহুতলের ছাদ থেকে তিনি ঠিক কী ভাবে নিচে পড়ে গেলেন, এদিন পুলিশের উপস্থিতিতে সেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পুনর্নির্মাণ করেন ফরেন্সিক আধিকারিকেরা।
বুধবার দুপুরে পরিচালকের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবরটি সামনে আসার পর জানা গিয়েছিল, বৃহস্পতিবারই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তবে বিদেশ থেকে পরিচালকের কন্যা ঐশী (রাই) দত্তের ফেরার অপেক্ষা করছিল পরিবার। ইতিমধ্যেই তিনি শহরে এসে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার অনীক দত্তের স্ত্রী সন্ধি দত্ত এবং কন্যা ঐশী যৌথভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি লিখিত বিবৃতি জারি করেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ মে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনীক দত্তের মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য টালিগঞ্জের নিউ থিয়েটার্স-১ স্টুডিয়োতে শায়িত রাখা হবে। সেখানেই পরিবারের সদস্য, প্রিয়জন ও গুণমুগ্ধরা তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। পরিবার সূত্রে সকলকে এই শেষযাত্রায় শামিল হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রয়াত পরিচালকের মরদেহ নন্দন চত্বরে রাখার বিষয়ে একটি জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অভিনেতা তথা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানিয়েছিলেন, অনীকবাবুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সরকারি উদ্যোগে মরদেহ কিছুক্ষণের জন্য নন্দনে রাখার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে; কারণ এই বিষয়ে পরিবারের ইচ্ছাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
এই গভীর শোকের আবহের মধ্যেই অনীক দত্তের মৃত্যু ঘিরে একাধিক নতুন প্রশ্ন ও রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে। গড়িয়াহাট থানার পুলিশ ওই আবাসনের ছাদ থেকে একটি খামবন্দি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাদের একটি ম্যাগাজিনের ভেতরে খামে ভরে চিঠিটি লুকিয়ে রাখা ছিল। চিঠিটি অনীকবাবু তাঁর মেয়ে ঐশীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন। তবে অত্যন্ত রহস্যময় এই চিঠিতে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য সুনির্দিষ্ট ভাবে কাউকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক তদন্তের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার কিনারা করতে চাইছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি