
রায়পুর, ২৮ মে (হি.স.) : ছত্তিশগড়ে তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের জেরে একাধিক এলাকায় ময়ূর ও বাদুড়-সহ বহু বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। দু’দিন আগে খৈরাগড় জেলার দল্লিখোলি-লছনা জঙ্গলে ময়ূর ও পাম সিভেট-সহ একাধিক বন্যপ্রাণীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
খৈরাগড়ের ডিএফও পঙ্কজ রাজপুত বৃহস্পতিবার সরকারি বিবৃতিতে জানান, পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করা হচ্ছে, প্রবল গরম ও হিটস্ট্রোকের কারণেই ওই প্রাণী ও পাখিগুলির মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃত প্রাণীদের ভিসেরা নমুনা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জলাশয়ের জলের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
ডিএফও জানিয়েছেন, জঙ্গলে প্রায় ১০টি বন্যপ্রাণী—যার মধ্যে ময়ূর, গন্ধগোকুল (সিভেট বা পাম সিভেট) ও কিছু বন্যপাখি রয়েছে—মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তবে ফরেন্সিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিলাসপুরের কানন পেন্ডারি থেকে আসা বিশেষ পশু চিকিৎসক দল মৃত প্রাণীগুলির ময়নাতদন্ত করেছে। পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি ও ফটোগ্রাফিও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দু’দিন আগেই কাঁকের জেলার সরোনা গ্রামে তাপপ্রবাহে প্রায় ৫০০টি বাদুড় মারা যায়। একইভাবে কোরবা জেলার পালি এলাকাতেও প্রায় ২০০টি মৃত বাদুড় উদ্ধার হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমে বন্যপ্রাণীদের রক্ষায় বন দফতর ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বনমন্ত্রীর নির্দেশে জঙ্গলের শুকিয়ে যাওয়া জলাশয়গুলিতে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল ভরে কৃত্রিম ওয়াটার হোল তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তৃষ্ণায় প্রাণীদের মৃত্যু না হয়।
ভিলাইয়ের মৈত্রীবাগ চিড়িয়াখানায় বাঘ, ভালুক ও অন্যান্য বিরল প্রাণীর খাঁচায় খাস ও বড় কুলার বসানো হয়েছে। প্রাণীদের ঠান্ডা রাখতে খাঁচায় স্প্রিঙ্কলার, ফগার ও কৃত্রিম ঝরনার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রাণীদের খাবারের তালিকায় রসালো ফল ও ওআরএস মিশ্রিত জল রাখা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য