
শিমলা, ২৮ মে (হি.স.) : হিমাচল প্রদেশে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়েছে। রাজ্যের ১ হাজার ২৭৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রাম সরকারের নতুন প্রতিনিধি বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন মানুষ। ভোটের প্রথম দু’ঘণ্টায় প্রায় ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে। সকাল থেকেই একাধিক বুথের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। গ্রামীণ এলাকায় প্রবীণ, মহিলা এবং প্রথমবার ভোট দিতে আসা যুবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে। ভোটগ্রহণ চলবে দুপুর তিনটে পর্যন্ত।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় মোট ১৭ লক্ষ ৩০ হাজার ৩০ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এদের মধ্যে ৮ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪১৬ জন পুরুষ, ৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৫৯৭ জন মহিলা এবং ১৭ জন অন্যান্য লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭ হাজার ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সকাল ন’টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উনা জেলায় সবচেয়ে বেশি ২৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে, লাহৌল-স্পিতিতে সবচেয়ে কম ১৪ শতাংশ ভোট রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া শিমলায় ২২ শতাংশ, সিরমৌরে ২২.৮৯ শতাংশ, সোলানে ২২.৭৯ শতাংশ, কুল্লুতে ২১ শতাংশ, কাংড়া, হামিরপুর, বিলাসপুর ও মান্ডিতে ২০ শতাংশ এবং কিন্নৌর ও চম্বায় ১৮ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এবারের নির্বাচনে প্রবীণ ভোটারদের উৎসাহ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। শিমলা জেলার ভাটওয়ারি ঝাটওয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১০৭ বছরের ধর্মপতি ভোট দিয়ে সকলকে অনুপ্রাণিত করেছেন। একইভাবে শিমলার বালঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজরোলি পুল এলাকায় ১০২ বছরের পাড়ি দেবী ভোট দিয়ে দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। চম্বা জেলার সিয়ুর এলাকার জিপিএস রৈতান বুথে ১০০ বছরের অর্জুন সিংও ভোট দেন।
শিমলার লালপানি গ্রাম পঞ্চায়েতের গুনসা ওয়ার্ডের ৯৫ বছরের হরি সিং প্রায় দু’কিলোমিটার হেঁটে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে ভোট দেন। এছাড়া পৌডিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কিয়ারনু ও কোটি ওয়ার্ডে যথাক্রমে ৯৬ বছরের বীর সিং ও ৯০ বছরের গোকলু দেবী ভোট দিয়েছেন। শিমলার মধানা পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৮৯ বছরের মঙ্গত রাম এবং কিরণ পঞ্চায়েতের থাঙ্গাড় ওয়ার্ডে ৮৮ বছরের এক প্রবীণ ভোটারও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
প্রথমবার ভোট দিতে আসা যুবকদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ। শিমলার ভরানা গ্রাম পঞ্চায়েতের গড়লি ভরানা বুথে ১৯ বছরের ধ্রুব শর্মা এবং ২০ বছরের জ্যোতি প্রথমবার ভোট দেন। অনেক যুবক-যুবতী বুথে সেলফি তুলে গণতন্ত্রের উৎসবে অংশগ্রহণের মুহূর্ত তুলে ধরেন।
রাজ্যের সমতল এলাকায় সকাল থেকেই তীব্র রোদ ছিল, যদিও শিমলা-সহ কয়েকটি এলাকায় মেঘলা আকাশ দেখা যায়। আবহাওয়া দফতর বিভিন্ন জেলায় ঝড়, বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করেছে। কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহের আশঙ্কাও রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতগুলিতেই গণনা শুরু হবে এবং গভীর রাত থেকে প্রধান, উপপ্রধান ও ওয়ার্ড সদস্যদের ফল প্রকাশ শুরু হতে পারে। পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগণনা হবে ৩১ মে।
উল্লেখ্য, ২৬ মে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে ১ হাজার ২৯৩টি পঞ্চায়েতে ৭৮.৯০ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় বেশি।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য