তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা অরূপ চক্রবর্তীর, ‘কম্পাউন্ডারদের’ বিঁধে বিস্ফোরক শান্তনু সেনও
কলকাতা, ২৮ মে (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ ও ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করল। এবার দলের মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অরূপ চক্রবর্তী। ঠিক আগের দিন, বুধবার তিনি কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপ্যালিটি অ্
অরূপ চক্রবর্তী


কলকাতা, ২৮ মে (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ ও ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করল। এবার দলের মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অরূপ চক্রবর্তী। ঠিক আগের দিন, বুধবার তিনি কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপ্যালিটি অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, দলের অন্দরে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আর এক প্রবীণ নেতা শান্তনু সেনও। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগ এবং নেতৃত্বকে নিশানা করার ঘটনায় ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের কোন্দল একেবারে রাস্তায় চলে এল।

দলীয় পদ ছাড়ার পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘বিদ্রোহী’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন অরূপ চক্রবর্তী। তৃণমূলে থাকা অবস্থাতেই স্পষ্ট ভাষায় তিনি স্বীকার করে নেন, দলের ভেতরে একাধিক ‘রোগ’ বাসা বেঁধেছে। আর সেই রোগ সারাতে দেয়নি দলেরই কিছু ‘কম্পাউন্ডার’।

দলের নীতি ও রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের উদাহরণ টানেন অরূপ। তিনি বলেন, “আমি তো এখানে আসার সময়েই দেখে এলাম চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভার পেরিয়ে এলাম। কিন্তু মেট্রো রেলের কাজটা আমাদের সরকার আটকে রেখেছিল। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিল। আমিও সে সময়ে দলের হয়ে যুক্তি দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই যুক্তি আমার নিজের কাছেও সে সময়ে বিশ্বাসযোগ্য লাগেনি। অথচ আজ নতুন সরকার আসতেই কাজটা মাত্র ৫ দিনে হয়ে গেল। তাহলে কারা আটকে রেখেছিল?”

এই প্রসঙ্গেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আশেপাশের বৃত্তকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আসলে ডাক্তারবাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কোনও কম্পাউন্ডাররা এই বুদ্ধিটা দিয়েছিলেন যে কাজটা আটকে রাখতে হবে? তাঁদের কী কায়েমি স্বার্থ ছিল? আজকে দল কষ্ট ভোগ করছে এই কম্পাউন্ডারগুলোর জন্যই। আজকে তো পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, এই কম্পাউন্ডাররাই পার্টিটাকে সম্পূর্ণ ভুল চালনা করেছে। যাঁরা দলটাকে ড্যামেজ করে গিয়েছে, তাঁরা এখন চুপ করে পিছনের দরজা দিয়ে পালাচ্ছে।” তাঁর সাফ কথা, তৃণমূল কংগ্রেস ধীরে ধীরে তার আদি ‘তৃণমূল স্তর’ তথা সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। আর এর জন্য সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চেম্বারের বাইরে থাকা ‘কম্পাউন্ডাররাই’ দায়ী।

আরজি কর কাণ্ড নিয়ে এতদিন পর মুখ খোলেন অরূপ চক্রবর্তী। আরজি কর হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ‘প্রমোশনাল ট্রান্সফার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই ধরণের একের পর এক সিদ্ধান্তের কারণেই সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল, যার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বক্সে। ‘বিদ্রোহী’ অরূপের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলোয় আলোকিত হয়ে এই কম্পাউন্ডাররাই রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের এজেন্সি নিয়ে রেখেছিল। দিদিকে নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই, দিদি আমাদের কাছে মায়ের পরের জায়গাটাই। কিন্তু সেই কম্পাউন্ডারগুলো আজ পালিয়ে গিয়েছে, যারা রোজ সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরে বেড়াত।” ভোট বিপর্যয়ের পর একই দিনে দুই মুখপাত্রের পদত্যাগ এবং এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande