
হুগলি, ২৮ মে (হি.স.) : হুগলি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলতে থাকা অসন্তোষের আবহে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। বৃহস্পতিবার ভদ্রেশ্বর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী-সহ মোট ৮ জন কাউন্সিলর একযোগে নিজেদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁরা সবাই পৌরসভার নির্বাহী আধিকারিকের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই ঘটনাকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই পৌরসভার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক কার্যপদ্ধতি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে একাংশ কাউন্সিলরের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। দলীয় অন্দরের টানাপোড়েন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে অনেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই গণপদত্যাগ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক কারসাজির অভিযোগে একের পর এক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধারাবাহিক তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপের আবহে দলের অন্দরে অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। এই পরিস্থিতিতে এই পদত্যাগ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দীপাঞ্জন গুহ বলেন, পদত্যাগকারী কাউন্সিলররা জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রত্যেকেরই জনমতকে সম্মান করা উচিত। তিনি মনে করেছেন যে তিনি সরকারের সঙ্গে চলতে পারবেন না, তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন। এটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”
তবে পদত্যাগকারীদের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি। ফলে এই পদত্যাগের নেপথ্যে শুধুই সাংগঠনিক ক্ষোভ, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
ভদ্রেশ্বর পৌরসভায় এই গণপদত্যাগের পর এখন রাজনৈতিক মহলের নজর তৃণমূল নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এলাকার পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণের দিকেই।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA