
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২৮ মে (হি.স.) : দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তি শেষ পর্যন্ত গড়াল রক্তাক্ত হামলায়! উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর থানাধীন দেওয়ানপাশা এলাকার ৩ নং ওয়ার্ড বুধবার রাতে পরিণত হয় এক বিভীষিকাময় ঘটনার সাক্ষীতে। অভিযোগ, স্বামী জয়দেব বর্মন দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ মেরে গুরুতর জখম করেন স্ত্রী শিল্পী সেন বর্মনকে। গলার পিছনে গভীর ক্ষত নিয়ে বর্তমানে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই মহিলা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে দেওয়ানপাশা পঞ্চায়েতের ৩ নং ওয়ার্ডে একটি ভাড়া বাড়িতে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটে। গুরুতর আহত মহিলার নাম শিল্পী সেন বর্মন (৪৫)। অভিযুক্ত স্বামী জয়দেব বর্মন (৫০)-এর বাড়ি কাঞ্চনপুর এলাকায়। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তাঁরা ওই এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বাড়িতে ওঠার পর থেকেই প্রায় নিত্যদিনই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি, ঝগড়া ও বচসা চলত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। এমনকি 'চেতনাশক্তি' সমিতির সদস্যরাও বহুদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ মেটানোর চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। বুধবারও বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীরা বৈঠকে বসেছিলেন বলে জানা গেছে।
ভাড়া বাড়ির মালিক শশাঙ্ক দেবনাথ জানান, সম্প্রতি ডিভোর্স সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি খুঁজে না পেয়ে শিল্পী সেন বর্মন ধর্মনগর মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল, স্বামী জয়দেব বর্মন ইচ্ছাকৃতভাবে সেই কাগজপত্র সরিয়ে রেখেছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে মহিলা থানার পক্ষ থেকে জয়দেবকে ফোন করা হয়। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
রাতের দিকে আচমকাই ভাড়া বাড়ি থেকে চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। শশাঙ্ক দেবনাথের ছেলে ছুটে গিয়ে দরজা খুলতেই চোখে পড়ে রক্তাক্ত দৃশ্য। মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে রয়েছেন শিল্পী সেন বর্মন, আর হাতে ধারালো দা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে অভিযুক্ত জয়দেব বর্মন। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। বিষয়টি জানানো হয় যুবরাজনগরের প্রাক্তন বিধায়িকা মলিনা দেবনাথ এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের। অন্যদিকে খবর পেয়ে ধর্মনগর দমকল দফতরের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত মহিলাকে উদ্ধার করে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্রের কোপে মহিলার গলার পিছনের অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। হাসপাতাল চত্বরে এদিন উদ্বেগে ভিড় জমায় স্থানীয় বাসিন্দারা। আহত মহিলার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান প্রাক্তন বিধায়িকা মলিনা দেবনাথ সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি। তাঁরা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে ধরতে তৎপর হয়ে ওঠে ধর্মনগর থানার পুলিশ। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়দেব বর্মনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক অশান্তিকেই এই রক্তাক্ত হামলার মূল কারণ বলে মনে করছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ