অন্ধকারে থমকে রুজির চাকা, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দিশেহারা কুমারঘাটের ই-রিকশা চালকরা
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২৮ মে (হি.স.) : “গাড়িতে চার্জ নেই, তাই রাস্তায় নামতে পারছি না। রোজগার না হলে সংসার চলবে কীভাবে?”—এই আর্তনাদ এখন ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার শতাধিক ই-রিকশা চালকের। লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কার্যত অন্ধকারে ডুবে রয়েছে শহর সংল
কুমারঘাটে ই-রিকশা


কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২৮ মে (হি.স.) : “গাড়িতে চার্জ নেই, তাই রাস্তায় নামতে পারছি না। রোজগার না হলে সংসার চলবে কীভাবে?”—এই আর্তনাদ এখন ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার শতাধিক ই-রিকশা চালকের। লাগাতার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কার্যত অন্ধকারে ডুবে রয়েছে শহর সংলগ্ন এলাকা থেকে বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল। আর সেই বিদ্যুৎ সমস্যাই কেড়ে নিচ্ছে বহু দরিদ্র পরিবারের একমাত্র রুজির পথ।

ডিজিটাল ভারতের স্বপ্ন দেখানো হলেও বাস্তবে বিদ্যুতের হাহাকারে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ব্যাটারি চালিত ই-রিকশা চালকদের দুর্ভোগ এখন চরমে। দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না গাড়িতে। ফলে রাস্তায় নামতে না পেরে উপার্জন বন্ধ হয়ে পড়ছে বহু চালকের। অনেকেরই মাসিক কিস্তির টাকা জোগাড় করাও এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুমারঘাট মহকুমার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টি বা হালকা বাতাস হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ উধাও হয়ে যাচ্ছে। কখনও পুরো রাত, কখনও আবার দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে মানুষকে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ই-রিকশা চালকদের জীবনে।

ফটিকরায় বিধানসভার রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা তথা ই-রিকশা চালক মিঠুন মজুমদার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আগে পেট্রোল চালিত গাড়ি চালাতাম। আয় কমে যাওয়ায় ধারদেনা করে ই-রিকশা কিনেছি। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ি চার্জই দিতে পারছি না। বাধ্য হয়ে শহরে গিয়ে টাকা দিয়ে চার্জ করতে হচ্ছে। এতে যা রোজগার হয়, তার অনেকটাই খরচ হয়ে যাচ্ছে চার্জের পেছনে। সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে।”

একই সুর শোনা গেল চালক সমিরন শব্দকরের গলাতেও। তাঁর কথায়, “হালকা বাতাস হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। গাড়িতে চার্জ না থাকলে বের হব কীভাবে? টোটো চালিয়েই সংসার চলে। এখন রোজগার বন্ধ। কিস্তির টাকা দেওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

চালক সঞ্জীব দেবনাথ জানান, “দিনের বেলায় বিদ্যুতের দেখা মেলে না বললেই চলে। রাতে একটু এলেও বৃষ্টি হলেই আবার চলে যায়। আগে পরিষেবা অনেক ভালো ছিল। এখন ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের কথা বলা হলেও বাস্তবে মানুষ অন্ধকারেই দিন কাটাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকলে কম খরচে চার্জ দিতে পারতাম। এখন বাইরে গিয়ে বেশি টাকা খরচ করে চার্জ করতে হচ্ছে। অনেকেই ডিজেল-পেট্রোল গাড়ি ছেড়ে ই-রিকশা নিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটাও চালানো যাচ্ছে না।”

জগদীশ কর নামে আরেক চালকের বক্তব্য, “বিদ্যুৎ না থাকলে চার্জ হয় না, চার্জ না হলে রোজগার নেই। প্রতি মাসে কিস্তির টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এইভাবে আর কতদিন চলবে?”

শুধু ই-রিকশা চালকরাই নন, বিদ্যুৎ সমস্যায় জেরবার হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষও। পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গৃহস্থালির কাজ—সব ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে ভোগান্তির ছায়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ পরিষেবার উন্নয়নের বড় বড় দাবি করা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না কোথাও। বরং দিন যত যাচ্ছে, সমস্যা ততই বাড়ছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—ডিজিটাল ভারতের স্বপ্ন দেখিয়ে যদি সাধারণ মানুষের ঘরেই আলো না পৌঁছায়, তাহলে সেই উন্নয়নের দাবি কতটা বাস্তব? কুমারঘাটের ই-রিকশা চালকদের চোখে এখন শুধু অনিশ্চয়তার অন্ধকার। আর সেই অন্ধকার কাটাতে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব হয়ে উঠছেন তাঁরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande