
আগরতলা, ২৮ মে (হি.স.) : জনজাতি সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত হল “জনজাতি গরিমা উৎসব”। ভারত সরকারের “জন ভাগিদারি অভিযান”-এর অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। অনুষ্ঠানে জনজাতি সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু বলেন, রাজ্য সরকার জনজাতি অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে দূরবর্তী গ্রামগুলিতে প্রশাসনিক শিবির আয়োজনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা, শংসাপত্র প্রদানসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জনজাতি জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে চলেছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, বরং জনজাতি সমাজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তা তুলে ধরা। “জনজাতি গরিমা উৎসব” সেই লক্ষ্য পূরণেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এবং তাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের অ্যাকাউন্টে স্কলারশিপের টাকা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা বর্তমানে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষেও জনজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের সময়মতো স্কলারশিপ প্রদানের জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য ও স্বনির্ভরতার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনজাতিদের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, “জন ভাগিদারি অভিযান”-এর অংশ হিসেবেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় “জনজাতি গরিমা উৎসব” উপলক্ষয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ শিবির আয়োজন করা হচ্ছে। জেলা শাসকদের তত্ত্বাবধানে আদিবাসী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে এই শিবিরগুলির মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এসটি শংসাপত্র, পিআরটিসি শংসাপত্র প্রদান, কৃষি ও মৎস্য সংক্রান্ত সহায়তা সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু জনজাতি পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংযোগ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। “জনজাতি গরিমা উৎসব”-এর মাধ্যমে একদিকে যেমন জনজাতি সংস্কৃতির প্রসার ঘটছে, অন্যদিকে উন্নয়নের মূল স্রোতে জনজাতি সমাজকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও জোরদার হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ