সম্প্রীতির বার্তায় রাজ্যজুড়ে উদযাপিত ঈদ উল আজহা, গেদু মিয়া মসজিদে প্রধান জামাত
আগরতলা, ২৮ মে (হি.স.) : ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সারা বিশ্বের সঙ্গে ত্রিপুরায়ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল পবিত্র ঈদ উল আজহা তথা কুরবানির ঈদ। বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মসজিদে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ
মসজিদে নামাজ আদায়


আগরতলা, ২৮ মে (হি.স.) : ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সারা বিশ্বের সঙ্গে ত্রিপুরায়ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল পবিত্র ঈদ উল আজহা তথা কুরবানির ঈদ। বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মসজিদে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ নামাজ আদায় করেন। এদিন রাজ্যের মূল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় আগরতলার ঐতিহ্যবাহী গেদু মিয়া মসজিদ প্রাঙ্গনে।

সকালের প্রথম প্রহর থেকেই ৮ থেকে ৮০—সব বয়সের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে গেদু মিয়া মসজিদ এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। নতুন পোশাকে সজ্জিত ধর্মপ্রাণ মানুষজন ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গনে সমবেত হন। সেখানে ঈদের নামাজে ইমামতি করেন মৌলানা আব্দুর রহমান। নামাজ শেষে দেশ, রাজ্য ও সমগ্র মানবজাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সম্প্রীতির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নামাজ আদায়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মৌলানা আব্দুর রহমান বলেন, “ঈদ উল আজহা মূলত ত্যাগের উৎসব। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের মহান আদর্শকে স্মরণ করেই এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। সেই ত্যাগ, মানবতা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের শিক্ষা নিয়েই আজ বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদ উল আজহা পালন করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই পবিত্র দিনে রাজ্য ও দেশের সকল নাগরিককে ঈদ মোবারক ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ঈদের আনন্দ সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা বয়ে আনুক, এটাই আমাদের কামনা।”

ঈদের নামাজ শেষে গেদু মিয়া মসজিদ প্রাঙ্গনে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ধর্মপ্রাণ মানুষজন একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ছোটদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস, আর প্রবীণদের মুখেও ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি। সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য ছবি ধরা পড়ে গোটা পরিবেশে।

শুধু গেদু মিয়া মসজিদেই নয়, রাজধানীর পশ্চিম নোয়াবাদিসহ বিভিন্ন এলাকায়ও যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিম নোয়াবাদিতে ঈদের নামাজে ইমামতি করেন মৌলানা বিল্লাল আহমেদ। এছাড়াও আগরতলার অন্যান্য মসজিদ এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মসজিদগুলোতেও এদিন বিশেষ নামাজ আদায় ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

সব মিলিয়ে পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে এক আনন্দঘন, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande