
বীরভূম, ২৯ মে (হি.স.): নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে চন্দ্রনাথ সিনহা। সই না মেলার অভিযোগের তদন্তে শুক্রবার বোলপুরের বিধায়ক তৃণমূলের চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতে যায় সিআইডি-র দল। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়ে বিধানসভায় প্রথমে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পরিষদীয় নিয়মে সেই চিঠির মান্যতা নেই বলে বিধানসভার সচিবালয় জানিয়ে দেওয়ার পরে ফের তৃণমূলের তরফে দলের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল বিধায়কদের নাম দিয়ে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে থাকা কয়েক জন বিধায়কের সই এবং বিধানসভার বিভিন্ন নথিতে থাকা তাঁদের সই মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিধানসভার সচিবালয়ের তরফে অভিযোগ করা হয়।
এ দিন সিআইডি-র একটি প্রতিনিধি দল বিধায়কের বাড়িতে যান। তদন্তকারীরা বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি ক্যামেরাতে তাঁর একটি বয়ান রেকর্ডও করেন। পরে চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, ৬ মে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমরা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করেছিলাম। সেখানে আমরা একটি স্বাক্ষর করেছিলাম। সেই স্বাক্ষর নিয়ে ওঁদের সন্দেহ হওয়ায় এ দিন তাঁরা এসেছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫ বছরের শাসকদল থেকে বিরোধী দলের তকমা পেয়েছে। কে হবেন বিরোধী দলনেতা, সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন মমতা-অভিষেক। সেই বৈঠকের পরেই সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম পেশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতার নামের সপক্ষে রেজোলিউশনে স্বাক্ষর নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে দায়ের হয় মামলা। আর সেই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিধায়কদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন সিআইডি আধিকারিকরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ