
কলকাতা, ২৯ মে (হি.স.) : দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং-সহ সমগ্র পাহাড়ি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। শুক্রবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নের সভাগৃহে আয়োজিত এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি -র সাংসদ রাজু বিস্ট, তিনজন বিধায়ক, রোশন গিরি, বিমল গুরুং এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। এই বৈঠকে কালিম্পং শহরে অতি দ্রুত একটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সেই লক্ষ্যে সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করবে রাজ্য সরকার। মূলত এদিনের বৈঠকে পাহাড়ের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে পাহাড়ে চারটি পুরসভা থাকলেও একমাত্র দার্জিলিং পুরসভাতেই নির্বাচিত বোর্ড রয়েছে। বাকি তিনটি পুরসভা অর্থাৎ কালিম্পং, মিরিক ও কার্শিয়াং পুরসভায় এতদিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এবার সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সরিয়ে সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসকদের (এসডিও) প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, পাহাড়ের সাধারণ মানুষ যাতে নাগরিক পরিষেবা ও উন্নয়নের অধিকার থেকে কোনওভাবেই বঞ্চিত না হন, তা সুনিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য।
প্রশাসনের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জিটিএ -র জন্য ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (ইউসি) জমা না দেওয়ায় সেই অর্থ ব্যবহার করা যায়নি। এ ছাড়া, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১৭০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ থাকলেও বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা জমা না পড়ায় জিটিএ ফান্ড বা তহবিলে এখনও একটি টাকাও পায়নি। সরকারের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ বিভাগ ছাড়া জিটিএ-র হাতে যে সমস্ত দায়িত্বগুলি ন্যস্ত রয়েছে, সেগুলির কোনও কাজ কার্যতঃ এগোয়নি এবং সেই কাজ করার সদিচ্ছাও তাদের নেই।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দ্রুত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের তালিকা পাঠানোর জন্য জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সামা পারভিনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাহাড়ের পুরসভাগুলিতে পানীয় জল, রাস্তা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্ট্রিট লাইট, গাড়ি পার্কিং ও বাসস্ট্যান্ড-সহ ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ করতে। পাশাপাশি পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটক পরিষেবাও আরও উন্নত করার কথা বলা হয়েছে এদিনের বৈঠকে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত