জন্মের দু’দিনেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল নবজাতক, টিএমসিতে বিরল অস্ত্রোপচারে নজির
আগরতলা, ২৯ মে (হি.স.) : জন্মের মাত্র দু’দিনের মাথায় জটিল জন্মগত রোগে আক্রান্ত নবজাতকের সফল অস্ত্রোপচার করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল হাঁপানিয়ার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ (টিএমসি) হাসপাতাল। চিকিৎসকদের তৎপরতা, দক্ষতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচ
চিকিৎসককে সংবর্ধনা


আগরতলা, ২৯ মে (হি.স.) : জন্মের মাত্র দু’দিনের মাথায় জটিল জন্মগত রোগে আক্রান্ত নবজাতকের সফল অস্ত্রোপচার করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল হাঁপানিয়ার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ (টিএমসি) হাসপাতাল। চিকিৎসকদের তৎপরতা, দক্ষতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে সদ্যোজাত শিশুটি। বর্তমানে সে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং মায়ের দুধ পান করছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, তেলিয়ামুড়া কলোনির বাসিন্দা সন্তানসম্ভবা গৃহবধূ বিথি বালার গর্ভাবস্থার নিয়মিত সোনোগ্রাফি পরীক্ষায় ধরা পড়ে, গর্ভস্থ শিশুটির পেটের নাড়িভুড়ি ও অন্যান্য অঙ্গ স্বাভাবিক অবস্থানে না থেকে বুকের বাঁদিকের ফুসফুস সংলগ্ন স্থানে উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিরল জন্মগত সমস্যার নাম ডায়াফ্রাম হার্নিয়া।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিষয়টি দ্রুত টিএমসি হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জন ডাঃ অনিরুদ্ধ বসাকের নজরে আনেন। সমস্ত রিপোর্ট ও শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে ডাঃ বসাক অবিলম্বে শিশুটির ডেলিভারির পরামর্শ দেন, যাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়।

সেই অনুযায়ী গত ১৯ মে জিবিপি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য জিবিপি হাসপাতাল থেকে হাঁপানিয়ার ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ২০ মে শিশুটির একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর জটিল অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

প্রায় দু’ঘণ্টাব্যাপী এই সূক্ষ্ম ও জটিল অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন পেডিয়াট্রিক সার্জন ডাঃ অনিরুদ্ধ বসাক। টিএমসি-র চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি বিশেষ দল অপারেশনে সহযোগিতা করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির বুকের ভিতরে উঠে আসা নাড়িভুড়ি ও অন্যান্য অঙ্গ পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে এনে ডায়াফ্রামের ত্রুটি মেরামত করা হয়।

শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডাঃ অনিরুদ্ধ বসাক জানান, “ডায়াফ্রাম হার্নিয়া একটি অত্যন্ত জটিল জন্মগত রোগ। এর ফলে শিশুর ফুসফুস ও হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। সময়মতো অস্ত্রোপচার না হলে শিশুটিকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ত। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হতে পারে।”

এই সফল অস্ত্রোপচারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই টিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী ও তাঁদের পরিবারের মধ্যেও খুশির আবহ তৈরি হয়। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এদিন ডাঃ অনিরুদ্ধ বসাককে পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ডাক্তারদের আন্তরিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণেই আমাদের সন্তান নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে।”

ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই বিরল ও সফল অস্ত্রোপচার স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande