
ওয়াশিংটন/দোহা/তেহরান, ৩ মে (হি.স.) : ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি তাঁর হাতে পৌঁছেছে, তবে তা থেকে সমঝোতা সম্ভব হবে বলে তিনি এখনও আশাবাদী নন।
শনিবার পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখনও প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেননি। তিনি জানান, প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখে তবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে। পরে তিনি ট্রুথ সোশ্যাল -এ পোস্ট করে লেখেন, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই তাঁর মনে হচ্ছে। ইরানের অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও দাবি করেন, দেশটি এখনও তার কর্মকাণ্ডের পূর্ণ মূল্য দেয়নি।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল-এর যৌথ সামরিক হামলার পর হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।
জানা গিয়েছে, ইরানের প্রস্তাবে আক্রমণ না করার নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবানন-সহ একাধিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এই প্রস্তাবের কার্যকারিতা নিয়ে ওয়াশিংটনের তরফে এখনও স্পষ্ট কোনও ইতিবাচক ইঙ্গিত মেলেনি।
ট্রাম্প বলেন, “আমি এখনও প্রস্তাবটি পুরোপুরি দেখিনি। তা বিশদভাবে পর্যালোচনা করার পরই আমরা আমাদের অবস্থান জানাব।” তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ফের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই ইরানের আধা সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)' জানায়, তারা সম্ভাব্য সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে কাতার। কাতারের প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনা করে সংযম ও বিবেচনার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে চলা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় সব পক্ষের ইতিবাচক সাড়া প্রয়োজন, যাতে উত্তেজনা আরও না বাড়ে।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করা মার্কিন কূটনৈতিক দলে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছেন মার্কিন নীতিনির্ধারক নিক স্টুয়ার্ট। তিনি পূর্বের ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে দায়িত্বে ছিলেন এবং অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, চলমান এই সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব বিস্তৃত অঞ্চলে পড়তে পারে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য