
কলকাতা, ৩০ মে (হি.স.): দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সাথে দেখা করতে গিয়ে শনিবার নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার পর তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ করেন, তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে তাঁর প্রাণহানিও ঘটতে পারত। এই হামলার বিরুদ্ধে তিনি কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলে ঘোষণা করেছেন।
নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সাথে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁর ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং তাঁর সাথে থাকা মহিলা সহকর্মীদের সাথেও চরম দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানান, এর আগে তাঁর চোখে একাধিক অস্ত্রোপচার (সার্জারি) হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে তাঁর ওপর ইট-পাথর ছোড়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এর পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ঘটনায় যদি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কোনও ভূমিকা না থাকে, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ তাঁর বড়সড় ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি নিজের কর্মসূচি থমকে যেতে দেননি। বিক্ষোভের সময় কিছু দুষ্কৃতী বাড়ির দরজাও ভাঙার চেষ্টা করে বলে তিনি দাবি করেন। সেই সাথে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংসদ বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ছিল না এবং স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকদের জানানো সত্ত্বেও অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছাতে অনেকটাই দেরি করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ একে মারাত্মক 'নিরাপত্তা ত্রুটি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা ও হাঙ্গামা চলতে থাকা স্পষ্টতই প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রমাণ।
অন্যদিকে, ঘটনার খবর পেয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সোনারপুরে ছোটেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এই হিংসাত্মক ঘটনার নিন্দা করে সমস্ত পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুলিশ মোতায়েন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর রাজ্য সরকারকেই দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অতীতে বিজেপি নেতা ও কর্মীদেরও এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসার শিকার হতে হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সিপিআই(এম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, গণতন্ত্রে কোনও ধরনের হিংসাই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে আসল তথ্য সামনে আনা উচিত।
উল্লেখ্য, ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এদিন সোনারপুরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই এই তীব্র বিক্ষোভ ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি