
মথুরাপুর, ৩১ মে (হি. স.): সদ্য শেষ হওয়া ভোটের মরশুম ও লাগাতার গ্রীষ্মের দাবদাহে গত কয়েকমাস ধরেই রক্তের অভাব চলছে সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে। রক্তদাতাদের উৎসাহিত করতে নানা সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে ক্লাব, সংগঠনগুলিকেও রক্তদান শিবির করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর ও সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির তরফে। কিন্তু এসবের মধ্যেই মোটা টাকার বিনিময়ে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের হাতে রক্ত তুলে দিচ্ছে কিছু কিছু সংগঠন। বেআইনি ভাবে রক্তদান শিবির আয়োজনের অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। রক্তদাতাদের নানা ধরনের উপঢৌকনের লোভ দেখিয়ে সেই রক্ত বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মথুরাপুরের একটি বেসরকারি ক্লাবের বিরুদ্ধে। এমনকি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক দিয়ে চালানো হচ্ছিল শিবির, রয়েছে সেই অভিযোগও।
মথুরাপুরের একটি ক্লাব রবিবার এই শিবিরের আয়োজন করেছিল। এয়ার কুলার থেকে ফ্যান, উপহারের বিনিময়ে রক্তদান প্রক্রিয়া চলছিল সেখানে। কোনও চিকিৎসক ছাড়াই রক্তদান শিবির আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। হোমিওপ্যাথি পড়ুয়াদের দিয়ে চলছিল রক্তদান শিবির চালানো হচ্ছিল। একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের উদ্যোগে রক্তদান শিবিরে বেনিয়মের খবর পেয়ে স্বাস্থ্য দফতরের একটি দল সেই শিবিরে হানা দেয়। হাতে নাতে এই বেনিয়ম ধরেন তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গেই রক্তদান শিবির বন্ধের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। স্বাস্থ্য দফতরের রক্ত সুরক্ষা বা ব্লাড সেফটি বিভাগের যুগ্ম সচিব স্বরজিৎ রায় নিজেই এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করতে মথুরাপুর থানায়।
মথুরাপুর থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে একটি রক্তদান শিবির চলছিল। স্থানীয় একটি ক্লাব ওই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল। মথুরাপুর হাই স্কুলে চলছিল রক্তদান শিবির। থানার পাশেই রয়েছে এই স্কুল। সেখানে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য দফতরের টিম। তারপরই থানায় অভিযোগ জানাতে যায় ওই দল। সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে এখন রক্তের আকাল রয়েছে। নির্বাচন চলেছে বেশ কিছুদিন ধরে। তারপর এই গরম আবহাওয়া। এই পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্য জুড়েই সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের সঙ্কট দেখা দিয়েছে বিগত কয়েক মাস ধরে। এই আবহে স্বাস্থ্য দফতরের কাছে অভিযোগ আসে সরকারি হাসপাতালগুলিতে যে সমস্ত ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে তারা ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের মাধ্যমে সেভাবে রক্ত পাচ্ছেন না। তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে বেশি পরিমাণে রক্ত জমা পড়ছে। এই অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। কেন সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে কম রক্ত জমা পড়ছে, কেন বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে বেশি রক্ত জমা পড়ছে - এই রহস্য উদঘাটনে নামেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা।
এরপর জানা যায়, গড়িয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতাল মথুরাপুরের একটি ক্লাবের সহায়তায় মথুরাপুর থানার কাছেই মথুরাপুর হাই স্কুলে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিল। টেবিল ফ্যান, স্ট্যান্ড ফ্যান, এয়ার কুলার - এইসব উপহার দেওয়ার বিনিময়ে রক্ত নেওয়া হচ্ছিল এই শিবিরে, এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। শুধু উপহার দেওয়া নয়, এই রক্তদান শিবিরে অন্য নিয়মও মানা হয়নি। যেখানে এমবিবিএস পাশ করা চিকিৎসকের থাকা প্রয়োজন, সেখানে হোমিওপ্যাথির পড়ুয়া ইন্টার্নদের দিয়ে রক্তদান শিবির চালানো হচ্ছিল। এছাড়াও কোনও নির্দিষ্ট পরিমাণ না মেনেই রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগও উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা