‘বিশ্বকল্যাণ ও সামাজিক ঐক্যের পথ হিন্দুত্ব’, সংঘের কার্যকর্তা বিকাশ বর্গের সমারোপ অনুষ্ঠানে বলেছেন শংকর দাস
- সমাজকে বিভক্ত করার শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান হোজাই (অসম), ৩১ মে (হি.স.) : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর অসম ক্ষেত্রের উদ্যোগে আয়োজিত ২০ দিনব্যাপী কার্যকর্ত বিকাশ বর্গ (প্রথম, সাধারণ)-এর সমারোপ অনুষ্ঠান আজ রবিবার হোজাইয়ের গ
সমারোপ অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করছেন শংকরদাস কলিতা


স্বয়ংসেবকদের কলা প্রদর্শন


স্বয়ংসেবকদের মার্শাল আর্ট প্রদর্শন


সমারোপ অনুষ্ঠানমঞ্চে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ


- সমাজকে বিভক্ত করার শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান

হোজাই (অসম), ৩১ মে (হি.স.) : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর অসম ক্ষেত্রের উদ্যোগে আয়োজিত ২০ দিনব্যাপী কার্যকর্ত বিকাশ বর্গ (প্রথম, সাধারণ)-এর সমারোপ অনুষ্ঠান আজ রবিবার হোজাইয়ের গীতাশ্রমে জাঁকজমকপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ শিবিরে উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত ১০২ জন স্বয়ংসেবক অংশগ্রহণ করেন। সমারোপ অনুষ্ঠানে স্বয়ংসেবকদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আকর্ষণীয় শারীরিক প্রদর্শনী উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা, আরএসএস অসম ক্ষেত্রের বৌদ্ধিকপ্রমুখ শংকরদাস কলিতা বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ গত একশো বছর ধরে সমাজ সংগঠন ও জাতি গঠনের কাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত রয়েছে। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনামলে ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার ফলে নবপ্রজন্ম নিজেদের সাংস্কৃতিক শিকড় থেকে দূরে সরে গেছে। পাশ্চাত্য বস্তুবাদ, অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এবং ভোগবাদ সমাজ ও পরিবারের ঐতিহ্যবাহী কাঠামোকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন দেশ। ভারত বিভিন্ন মতাদর্শিক শক্তি যুবসমাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তথাকথিত রিডাকশনিস্ট অ্যাপ্রোচ সমাজকে জাতি, ভাষা, অঞ্চল ও অন্যান্য সংকীর্ণ পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভক্ত করে। যার ফলে সামাজিক ঐক্য দুর্বল হয়। তাঁর অভিযোগ, সায়েন্টিফিক সোশ্যালিজম এবং আরবান নকশালবাদ-এর মতো প্রবণতাগুলি সমাজে কৃত্রিম বিভাজন ও সংঘাতের মানসিকতা তৈরি করে।

অসমের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে শংকরদাস বলেন, একদিকে বিশ্বায়নের কথা বলা হয়, অন্যদিকে আপার আসাম-লোয়ার আসাম, বরাক-ব্রহ্মপুত্র, অসমিয়া-বাংলাভাষী, হিন্দিভাষী-অহিন্দিভাষী এবং বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলে। তিনি বলেন, বৈচিত্র্যকে সংঘাতের কারণ নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভাষা ও লিপি-সংক্রান্ত বিষয়গুলিকেও সমাজকে বিভক্ত করার মাধ্যম হতে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, সংঘের কাজ হলো ‘বসুধৈব কুটুম্বকম্’, ‘সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ’ এবং ‘একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি’-র মতো সনাতন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজকে সংগঠিত করা এবং বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তোলা।

আশীর্বচন প্রদান করতে গিয়ে মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলস জেলার ঐতিহ্যবাহী খাসি রাজ্য হিমা খাইরিমের উপ-রাজা হাবাপান সিয়েম আশা প্রকাশ করে বলেন, স্বধর্মভিত্তিক সেং খাসি-র প্রাচীন উচ্চ মূল্যবোধ সমাজ ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

সমারোপ অনুষ্ঠানে অসমের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার স্বয়ংসেবক, শুভানুধ্যায়ী এবং বিশিষ্ট নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। শিবিরটি সর্বাধিকারী পিভিএসএলএন মূর্তি এবং কার্যবাহক দীনেশ্বর সিং-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে আরএসএস-এর অসম ক্ষেত্র সংঘচালক ডা. উমেশ চক্রবর্তীও উপস্থিত ছিলেন। দেশপ্রেম এবং ভারতকে সর্বোচ্চ গৌরবের শিখরে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande