
আগরতলা, ৩১ মে (হি.স.) : ‘প্রধানমন্ত্রী স্ট্রিট ভেন্ডারস আত্মনির্ভর নিধি’ (পিএম স্বনিধি) প্রকল্পের অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির পথবিক্রেতাদের মধ্যে ২.৫৯ লক্ষের বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এই অর্থের মোট পরিমাণ ৪৩০ কোটি টাকার বেশি, জানান কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার।
আজ রবিবার আগরতলায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা প্রমুখদের উপস্থিতিতে ‘পিএম স্বনিধি’ প্রকল্পের ছয় বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে এই তথ্য জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির লক্ষ্য, স্বল্পসুদে জামানতবিহীন ঋণ, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে পথবিক্রেতাদের ক্ষমতায়ন করা।
অনুষ্ঠানে অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরার উপভোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার। এদিন ত্রিপুরার পথবিক্রেতাদের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড এবং ঋণ মঞ্জুরিপত্র বিতরণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির সাফল্য তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী খাট্টার বলেন, ২০২০ সালের জুন মাসে চালু হওয়ার পর থেকে ‘পিএম স্বনিধি’ লক্ষ লক্ষ পথবিক্রেতার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। আনুষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা প্রদান করে তাঁদের জীবিকা শক্তিশালী ও সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে এই প্রকল্প।
তিনি জানান, গত ছয় বছরে সারা দেশে ৭৫.৫ লক্ষের বেশি পথবিক্রেতা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত ১.১২ কোটির বেশি জামানতবিহীন ঋণ অনুমোদিত হওয়ার পাশাপাশি ১৭,৮০০ কোটির বেশি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
ত্রিপুরা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ৯ হাজার ৩০০-এর বেশি ঋণ অনুমোদিত হয়েছে। উপভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
মনোহরলাল খাট্টার বলেন, ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শহুরে দরিদ্র পথবিক্রেতাদের ক্ষমতায়ন ও তাঁদের জীবিকা শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে ‘পিএম স্বনিধি’ প্রকল্প চালু করেছিলেন। এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, পথবিক্রেতাদের মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্বীকৃতিও বৃদ্ধি করে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যা দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস