পর্যটনের বিকাশে বাধা চাকমাঘাট নৌকাঘাট, অব্যবস্থাপনায় মুখ থুবড়ে প্রকল্প
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ১ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরায় পর্যটন শিল্পের বিকাশে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাট নৌকাঘাটের বর্তমান বেহাল চিত্র সেই উদ্যোগকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। উদ্বোধনের পর অল্প সময়ের ম
চাকমাঘাটে নৌকাঘাট


তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ১ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরায় পর্যটন শিল্পের বিকাশে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাট নৌকাঘাটের বর্তমান বেহাল চিত্র সেই উদ্যোগকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। উদ্বোধনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও পরিকল্পনার অভাবের কারণেই সরকারি অর্থে নির্মিত এই পর্যটন কেন্দ্র আজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ বন দফতরের অধীন চাকমাঘাট এলাকায় নৌকাঘাটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। বড়সড় আয়োজনের মাধ্যমে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও আর্থিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু উদ্বোধনের আড়াই বছরের মধ্যেই প্রকল্পটির কার্যক্রম প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নৌকাঘাট চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে রয়েছে। গাছটি অপসারণে কোনও ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নৌকাঘাটে রাখা নৌকাগুলোও নিয়মিত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। ঘাটের বিভিন্ন অবকাঠামোতেও অবহেলার ছাপ স্পষ্ট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পরিবর্তে অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ করায় নৌবিহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন অধিকাংশ দর্শনার্থী। বর্তমানে নৌকাঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে ফিরে আসার জন্য জনপ্রতি ২০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। অথচ রাজ্যের অন্যান্য জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র যেমন ডম্বুর লেক বা ছবিমুড়ায় তুলনামূলকভাবে কম খরচে দীর্ঘ সময়ের নৌবিহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে চাকমাঘাটে আগত পর্যটকরা নৌকায় না চড়েই ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকলে নৌকা চালানো হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা হতাশ হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, পর্যটকদের সুবিধা ও আকর্ষণের বিষয়টি বিবেচনা না করেই নৌকা পরিচালনার নিয়ম ও ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রকল্পের ওপর।

চাকমাঘাট নৌকাঘাটের পাশেই অবস্থিত বন দফতরের মুঙ্গিয়াকামী রেঞ্জের চাকমাঘাট ফরেস্ট বিট অফিস। কিন্তু দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায় অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। কোনও কর্মচারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে সেখানে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেশিরভাগ সময়ই অফিস বন্ধ থাকে এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। শুধুমাত্র রাতের বেলায় একজন ফরেস্ট গার্ড পাহারার জন্য অবস্থান করেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নৌকাঘাটের সংস্কার, ভাড়া পুনর্বিবেচনা, নিয়মিত নৌপরিষেবা চালু এবং বন দফরের অফিসে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও নজরদারির মাধ্যমে চাকমাঘাট নৌকাঘাটকে আবারও একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। অন্যথায় সরকারি অর্থে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণরূপে অস্তিত্ব হারাবে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় মহলের আশা, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে প্রকল্পটির বর্তমান সংকট কাটিয়ে পর্যটন সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande