
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১ জুন (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর শহরের পদ্মপুর ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে ফের অবৈধ জুয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও মেলা প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যেই জুয়ার আসর বসেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহু বছরের পুরনো এই চড়ক পূজা ও মেলা ধর্মনগর মহকুমার অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এই মেলায়। তবে মেলার সঙ্গে অবৈধ জুয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়দের একাংশ।
অভিযোগ, মেলার প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর জমে উঠেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ওইসব আসরে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এই ধরনের কার্যকলাপ চললেও তা বন্ধে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
এদিকে, রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে এই মেলার উদ্বোধন করতেন ধর্মনগরের প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত বিশ্ববন্ধু সেন। তবে এবারের মেলায় ধর্মনগরের বর্তমান বিধায়ক জহর চক্রবর্তীকে উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মেলার আয়োজনে বিজেপি-র ধর্মনগর মণ্ডলের এক প্রভাবশালী নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ধর্মনগর থানার কিছু পুলিশ কর্মীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, অবৈধ জুয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই মেলাকে ঘিরে কোনও ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ চলতে দেওয়া উচিত নয়। তাঁরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মেলার পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলির বিষয়ে মেলা কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ