
শান্তিরবাজার (ত্রিপুরা), ১ জুন (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমার লাউগাং এলাকায় এক ব্যক্তিকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম দিলীপ দাস। বর্তমানে তিনি আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার লাউগাং এলাকার রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় দিলীপ দাসকে। ঘটনাটি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শান্তিরবাজার থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেয় এবং আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার জন্য দমকল বাহিনীর সহায়তা চায়।
পরে শান্তিরবাজার দমকল কেন্দ্রের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর আহত দিলীপ দাসকে উদ্ধার করে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে রেফার করেন।
এদিকে ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দিলীপ দাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি দেওয়া এবং কয়েকজনের ওপর হামলার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনগত প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করে সোমবার কিছু যুবক দিলীপ দাসকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে গিয়ে নির্জন জঙ্গলে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কোনও ব্যক্তি অপরাধ করে থাকলে তার বিচার আইনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে নির্মমভাবে মারধর করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহত দিলীপ দাসের শারীরিক অবস্থার ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ