
আমবাসা (ত্রিপুরা), ১ জুন (হি.স.) : ত্রিপুরায় হস্ততাঁত, হস্তকারু ও রেশম শিল্পের উন্নয়ন এবং তাঁতশিল্পীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আরও উন্নতির লক্ষ্যে সোমবার ধলাই জেলার আমবাসা পঞ্চায়েতরাজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে জেলাভিত্তিক পরামর্শমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হস্ততাঁত, হস্তকারু ও রেশম শিল্প দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন ক্লাস্টারের তাঁতশিল্পী, কারুশিল্পী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজ্যের হস্ততাঁত, হস্তকারু ও রেশম শিল্পমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন ধলাই জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, আমবাসা পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন প্রতিমা মালাকার, ভাইস চেয়ারপার্সন গোপাল সূত্রধর, দফতরের অধিকর্তা অজিত শুক্ল দাস, অতিরিক্ত জেলা শাসক ভান লাল ডিকা দার্লং-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হল প্রত্যেক মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে হস্ততাঁত, হস্তকারু ও রেশম শিল্প দফতর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, শুধু ‘লাখপতি দিদি’ তৈরিই নয়, আগামী দিনে ‘কোটিপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্য নিয়েও সরকার কাজ করছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং তাঁতশিল্পীদের উৎপাদিত সামগ্রীকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁদের আয় বৃদ্ধি করার জন্য একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও হস্তশিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নকশার বৈচিত্র্য এবং উন্নত বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই শিল্পকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি শিল্পীদের গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
পরামর্শমূলক সভায় জেলার বিভিন্ন ক্লাস্টারের সদস্যরা তাঁদের নানা সমস্যা, চাহিদা এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রী ও দফতরের আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরেন। কাঁচামাল সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা, বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে তাঁরা বিস্তারিত আলোচনা করেন। মন্ত্রী ও আধিকারিকরা শিল্পীদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হস্ততাঁত ও হস্তশিল্প শুধু একটি শিল্প নয়, এটি রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শিল্পের প্রসার ঘটলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিল্পীদের সঙ্গে সরকারের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অংশগ্রহণকারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিল্পীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই পরামর্শমূলক সভায় ভবিষ্যতে শিল্পের বিকাশ ও বাজার সম্প্রসারণের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। আয়োজকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শিল্পীদের সমস্যার সমাধান এবং শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ