তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের পরিষেবা নিয়ে বিক্ষোভমুখর গ্রাহকরা
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ১ জুন (হি.স.) : খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের পরিষেবা নিয়ে সোমবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক। বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়া ও প্রিপেইড রিচার্জ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে সকাল থেকেই বিদ্যুৎ নিগমের
বিদ্যুৎ নিগমের অফিসে বিক্ষোভ


তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ১ জুন (হি.স.) : খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের পরিষেবা নিয়ে সোমবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন শতাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক। বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়া ও প্রিপেইড রিচার্জ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে সকাল থেকেই বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়ে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। পরিষেবার মানহীনতা, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ ইউনিট অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অফিস চত্বর।

গ্রাহকদের অভিযোগ, সম্প্রতি প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করার পর আগের তুলনায় অনেক কম ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, আগে ৫০০ টাকার রিচার্জে যেখানে ৭০ থেকে ৮০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ মিলত, বর্তমানে একই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও মাত্র ১০ থেকে ১৫ ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের বোঝা মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চাইলে বিল কাউন্টারে কর্তব্যরত কর্মী হরিদাস সাহা সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। বরং তিনি বিষয়টির জন্য তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ নিগমের সিনিয়র ম্যানেজার উৎপল করকে দায়ী করে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু অফিসে উপস্থিত বহু গ্রাহক অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাঁরা কোনও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তাঁদের জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা বৈঠকে ব্যস্ত রয়েছেন।

এদিকে বিদ্যুৎ নিগমের কার্যালয়ে দুটি বিল কাউন্টার থাকা সত্ত্বেও মাত্র একটি কাউন্টার চালু থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হন গ্রাহকরা। সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারী, পুরুষ ও প্রবীণ নাগরিকদের। আলাদা মহিলা বা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কোনও ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, শত শত মানুষ যখন একটি মাত্র পাখার নিচে দাঁড়িয়ে পরিষেবা পাওয়ার অপেক্ষায় ঘাম ঝরাচ্ছেন, তখন অধিকাংশ আধিকারিকের কক্ষ ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও সেখানে পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নির্বিঘ্নে চলতে দেখা যায়। এই দৃশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের করের টাকায় পরিচালিত একটি সরকারি দফতরে যদি ন্যূনতম পরিষেবা, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা না যায়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? বিদ্যুৎ ইউনিট কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ, পর্যাপ্ত কাউন্টার চালু না রাখা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার জন্য বিদ্যুৎ নিগমের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।

ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

বর্তমানে ক্ষুব্ধ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের একটাই দাবি—প্রিপেইড মিটারে ইউনিট কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে, পর্যাপ্ত সংখ্যক বিল কাউন্টার চালু করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে উদাসীন আচরণ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ বিদ্যুৎ ভোক্তারা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande