প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১২ বছরের কার্যকালে অসমে সড়ক, রেল ও বিমান পরিষেবায় অভূতপূর্ব সাফল্য : প্রদেশ বিজেপি
গুয়াহাটি, ১৩ জুন (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার গত ১২ বছরে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’ মন্ত্রকে সামনে রেখে পরিষেবা, সুশাসন ও জনকল্যাণকে শাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। সরকার প্রকল্পগুলিকে কেব
প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১২ বছরের কার্যকালে অসমে সড়ক, রেল ও বিমান পরিষেবায় অভূতপূর্ব সাফল্য : প্রদেশ বিজেপি


গুয়াহাটি, ১৩ জুন (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন সরকার গত ১২ বছরে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’ মন্ত্রকে সামনে রেখে পরিষেবা, সুশাসন ও জনকল্যাণকে শাসনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। সরকার প্রকল্পগুলিকে কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, সেগুলির সুফল সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১০০ শতাংশ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। বিগত ১২ বছরের কার্যকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী অসমের সড়ক, রেল ও বিমান পরিষেবায় অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিয়েছেন, বলেছে বিজেপির প্রদেশ সভাপতি।

আজ শনিবার অসম প্ৰদেশ বিজেপির সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র মানস শরণিয়া এ কথা জানিয়ে বলেন, ২০১৪ সালে দেশের মানুষ প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আশীর্বাদ দিয়ে দেশসেবার জন্য দিল্লির ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই আস্থাকে আরও মজবুত করেছেন। ২০১৯ সালে সেই বিশ্বাস আরও শক্তিশালী রূপে প্রকাশ পায়। জনগণ আরও বড় জনাদেশ দিয়ে স্পষ্ট করে দেন, দেশবাসী শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, ফলাফলের দিকেও নজর রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী দরিদ্র, কৃষক ও যুবশক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছেন। সেজন্যই ২০২৪ সালের ১০ জুন তিনি টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। মোদী সরকার প্রমাণ করেছে, উন্নয়ন তখনই সফল হয়, যখন তার সুফল শেষ সারিতে দণ্ডায়মান ব্যক্তিটি লাভ করেন।

মোদী সরকারের ১২ বছর শুধু শাসনের নয়, বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সমন্বয়ের বছর, বলেন মানস শরণিয়া। তিনি বলেন, অটল বিহারী বাজপেয়ী ২০০০ সালে ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা’র মাধ্যমে যে দূরদর্শী ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী মোদী এর মাধ্যমে গ্রামীণ ভারতের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন।

গর্বের বিষয়, অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমল থেকে প্রায় ৮ লক্ষ কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা কেবলমাত্র গত ১২ বছরেই নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে দেশে মোট ৯১,২৮৭ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক ছিল। বর্তমানে সেই নেটওয়ার্ক প্রায় ১.৪৬ লক্ষ কিলোমিটারের বেশি হয়েছে।

আজ দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৪ কিলোমিটারের বেশি নতুন সড়ক নির্মাণ হচ্ছে, যেখানে ২০১৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রতিদিন মাত্র ১১.৬ কিলোমিটার। রাস্তা নির্মাণের ফলে দুর্গম এলাকাগুলিতেও উন্নয়নের ধারা পৌঁছে গেছে।

২০১৪ সাল পর্যন্ত রেলের আধুনিকীকরণ শুধুমাত্র স্বপ্ন ছিল, কিন্তু আজ রেলপথের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশের বেশি ব্রডগেজ বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পন্ন হয়েছে। সারা দেশের ১,৩৩৭টির বেশি রেল স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন যোজনা’র অধীনে বিশ্বমানের রূপ দেওয়া হচ্ছে।

আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৬৪-এর বেশি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন সফলভাবে চলাচল করছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় রেল নতুন, আধুনিক ও নিরাপদ পরিষেবা প্রদান করছে।

২০১৪ সালে মাত্র পাঁচটি শহরে ২৪৮ কিলোমিটার মেট্রো নেটওয়ার্ক ছিল। আজ ২৬-এর বেশি শহরে ১,০৯৫ কিলোমিটারের বেশি মেট্রো নেটওয়ার্ক স্থাপিত হয়েছে এবং এটি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল নগর পরিবহণ ব্যবস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম।

স্বাধীনতার ৬৭ বছর পর্যন্ত দেশে মাত্র ৭৪টি বিমানবন্দর ছিল। বর্তমানে মোদী সরকার ৯০টির বেশি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করায় আজ এই সংখ্যা ১৬৪টির বেশি হয়েছে। আজ ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবা সম্পন্ন দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ‘উড়ান যোজনা’ সাধারণ মানুষকেও বিমান যাত্রার সুযোগ করে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসম সহ উত্তরপূর্বকে ‘অষ্টলক্ষ্মী’র মর্যাদা দিয়েছেন। অসমে সড়ক, রেল ও বিমান পরিষেবায় গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন মোদী। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এর ফলস্বরূপ বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র নদের নীচ দিয়ে ১৫.৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সুরঙ্গ পথ নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে রেলপথের ব্যবস্থাও থাকবে। এর ফলে গহপুর থেকে নুমলিগড়ের দূরত্ব কমে যাবে এবং ২৪০ কিলোমিটার পথ মাত্র ছয় ঘণ্টায় অতিক্রম করা সম্ভব হবে।

গুয়াহাটি থেকে শিলচরের দূরত্ব কমানোর জন্য শিলং-শিলচর করিডরের ১৬৬ কিলোমিটার রাস্তার আধুনিকীকরণের জন্য ২২ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর ফলে গুয়াহাটি থেকে শিলঙে যাত্রার সময় আট ঘণ্টা থেকে কমে পাঁছ ঘণ্টা হবে।

জাতীয় উদ্যান কাজিরঙার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। এই করিডর ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এবং কলিয়াবর থেকে নুমলিগড় পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে।

গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত টার্মিনাল উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande