
শ্রীভূমি (অসম), ১৩ জুন (হি.স.) : শ্রীভূমি জেলা সদরে অবস্থিত ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী স্টিমারঘাট বিওপিতে নিজের সার্ভিস রাইফেলের গুলিতে আত্মঘাতী হয়েছেন জনৈক বিএসএফ জওয়ান। মৃত জওয়ানের নাম প্রেম কুমার। তিনি মিজোরাম-কাছাড় ফ্রন্টিয়ারের অধীনস্থ ১৭১ নম্বর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। তাঁর বাড়ি পঞ্জাবে বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ এবং সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার বিকাল প্রায় চারটা নাগাদ স্টিমারঘাট বর্ডার আউট পোস্টের পার্শ্ববর্তী দেওপুর এলাকার ওপি পয়েন্টে এই ঘটনা ঘটেছে। ওপি পয়েন্টে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা ছুটে গিয়ে দেখেন, প্রেম কুমার রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভিস রাইফেল ব্যবহার করেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বিএসএফ ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। শ্রীভূমির সদর থানার পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি হাসপাতালে মৃতদেহটি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সন্ধ্যার পর মাসিমপুর থেকে ১৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট সহ বিএসএফ-এর একাধিক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক স্টিমারঘাটে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পাশাপাশি সহকর্মী জওয়ানদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেছেন। তবে রাত (শনিবার) পর্যন্ত বিএসএফ-এর তরফে এ ঘটনাকে সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, প্রেম কুমারকে আজ গোটা দিন স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। তাঁর আচরণ বা কথাবার্তায় এমন কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি, যা থেকে এমন চরম পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। ফলে হঠাৎ কী কারণে তিনি আত্মঘাতী হলেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিএসএফ এবং পুলিশ উভয়েই ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।
বর্তমানে পুলিশ ও বিএসএফ-এর তদন্তকারীরা সহকর্মীদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও পরীক্ষা করছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তদন্তে আরও অগ্রগতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক তরুণ জওয়ানের এভাবে জীবনাবসান হওয়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিএসএফ মহলে। প্রেম কুমারের অকালমৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং পরিচিতদের মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস