৮০০ বছরের দাসত্বের পর বাংলায় এসেছে গেরুয়া আধিপত্য : দীপাঞ্জন গুহ
কলকাতা, ১৩ জুন (হি.স.): দীর্ঘ ৮০০ বছরের দাসত্বের পর বাংলায় এসেছে গেরুয়া আধিপত্য। এমনটাই দাবি করলেন চন্দননগরের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। তিনি বলেন, বিজেপি কর্মীদের দেশহিত ও রাষ্ট্র নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হ
দীপাঞ্জন গুহ


কলকাতা, ১৩ জুন (হি.স.): দীর্ঘ ৮০০ বছরের দাসত্বের পর বাংলায় এসেছে গেরুয়া আধিপত্য। এমনটাই দাবি করলেন চন্দননগরের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। তিনি বলেন, বিজেপি কর্মীদের দেশহিত ও রাষ্ট্র নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। শুক্রবার রাতে কেদারনাথ সিংহ স্মৃতি সেবা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা জানাতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপাঞ্জন গুহ এই মন্তব্য করেন। নিজের ভাষণে তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিজেপি কর্মীদের এই সরকারগুলোর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংগঠন ও সমাজের জন্য আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) তাঁকে অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তাভাবনা ও দেশসেবার সংস্কার দিয়েছে। তাঁর মতে, প্রত্যেক হিন্দুর মধ্যেই স্বয়ংসেবক হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এবং সমাজকে জাগ্রত করে রাষ্ট্র নির্মাণের লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। একটি গৌরবশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য সবকটি পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে চলা বিজেপির অগ্রাধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চন্দননগরের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে বিধায়ক বলেন, এখানকার জগদ্ধাত্রী পুজো বিশ্বপ্রসিদ্ধ। কিন্তু পূর্বতন সরকারগুলো কলকাতায় দুর্গাপুজো কার্নিভালকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে চন্দননগরের পুজোকে কিছুটা আড়ালে রাখার চেষ্টা করেছিল। বিজেপি সবসময় কার্নিভালের চেয়ে ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রার পরম্পরাকে সমর্থন করে এবং এই বছর চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে আরও জমকালো রূপ দেওয়া হবে।

দীপাঞ্জন গুহ আরও জানান, চন্দননগরকে অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক পরিকল্পনার কাজ চলছে। কুম্ভ মেলার ধাঁচে হোমস্টে ব্যবস্থা চালু করা এবং ভিনরাজ্য থেকে আসা পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার আহ্বান জানান। গঙ্গা বক্ষে বোট ট্যুরিজম (নৌ-পর্যটন) বাড়ানো এবং চন্দননগরের ফরাসি ইতিহাসকে পর্যটন মানচিত্রে প্রধান সারিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিধায়ক বলেন, চন্দননগরের ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবময়। এই পুণ্যভূমি কানাইলাল দত্ত, শ্রী অরবিন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ একাধিক মহান ব্যক্তিত্ব ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতিবিজড়িত। এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে নতুন পরিচিতি দিতে যৌথ প্রয়াসের প্রয়োজন। তিনি ঘোষণা করেন, শীঘ্রই চন্দননগরে একটি ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো’ শুরু হবে, যা শহরের ইতিহাসকে তুলে ধরবে এবং পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

টানা ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে দীপাঞ্জন গুহ আরএসএস-এর আদর্শকে রাষ্ট্র নির্মাণের আদর্শ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, একটা সময় সঙ্ঘের শাখার গতিবিধি নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা হতো, কিন্তু আজ সেই আদর্শে দীক্ষিত স্বয়ংসেবকরাই দেশ ও দুনিয়াকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি চন্দননগরের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই বিধানসভা কেন্দ্রটিকে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈভবশালী করে তুলতে তিনি নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এই উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল হওয়ার জন্য তিনি সমস্ত নাগরিককে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande