
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ১৩ জুন (হি.স.) : সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিজেপি-র চলমান ‘বুথ চলো অভিযান’-এর অংশ হিসেবে শনিবার খোয়াই জেলার ২৯ কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ২৮ নম্বর বুথ কমিটির উদ্যোগে চাকমাঘাট এলাকায় বুথ সভার আয়োজন করা হয়। সভাকে ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ২৯ কৃষ্ণপুর মণ্ডলের সহ-সভাপতি গোপাল দাস, খোয়াই জেলা পরিষদের সদস্য রঞ্জিত সরকার এবং বিজেপি-র অন্যান্য নেতৃত্ব।
সভায় এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে অংশ নেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। স্থানীয় বাসিন্দারা পানীয় জল, রাস্তা-ঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিকাশি সমস্যা-সহ বিভিন্ন দৈনন্দিন সমস্যা তাঁর সামনে তুলে ধরেন। মন্ত্রী মনোযোগ সহকারে জনসাধারণের বক্তব্য শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা জানান, চাকমাঘাট এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাকা রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা পানীয় জলের সমস্যারও দ্রুত সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সিপিআই(এম) সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে চাকমাঘাট এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমান বিজেপি সরকার গ্রামীণ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
সভায় উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্বও বুথভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বুথই দলের মূল শক্তি। তাই প্রতিটি বুথে কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তোলা হবে।
স্থানীয়দের মতে, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও মতবিনিময়ের এই ধরনের উদ্যোগ এলাকার বাস্তব সমস্যাগুলি চিহ্নিত করতে এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সহায়ক। রাজনৈতিক মহলেরও অভিমত, ‘বুথ চলো অভিযান’ শুধুমাত্র সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং জনসংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সভা শেষে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে আরও গতিশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ