মেঘালয়ে ৩,২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন গডকড়ির
- ৫২,৪০০ কোটি ব্যয়ে ১,৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত ৯২টি জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প মেঘালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আনছে বড় পরিবর্তন : নীতিন - শিলং–শিলচর এবং জোড়াবাট–বড়াপানি গ্রিনফিল্ড করিডর সহ ৯,৮০০ কোটি টাকার নতুন মহাসড়ক প্রকল্পের ঘোষণা - ‘ডাউকি, ডালু, স
মেঘালয়ে ৩,২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি


বক্তব্য পেশ করছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক দফতরের মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি


অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজন


- ৫২,৪০০ কোটি ব্যয়ে ১,৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত ৯২টি জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প মেঘালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আনছে বড় পরিবর্তন : নীতিন

- শিলং–শিলচর এবং জোড়াবাট–বড়াপানি গ্রিনফিল্ড করিডর সহ ৯,৮০০ কোটি টাকার নতুন মহাসড়ক প্রকল্পের ঘোষণা

- ‘ডাউকি, ডালু, সোহরা ও সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ উন্নত করে বাণিজ্য, পর্যটন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে প্রকল্পগুলি’

- ‘উন্নত সড়ক পরিকাঠামোর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জীবিকার প্রসার ঘটবে’

- ‘উত্তরপূর্ব ভারতে দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগের জন্য বিশ্বমানের মহাসড়ক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’

শিলং, ১৫ জুন (হি.স.) : মেঘালয়ে মোট ৩,২১৪ কোটি টাকা বিনিয়োগে ছয়টি জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক দফতরের মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি।

আজ শিলঙের পোলো গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অন্য বহু বিশিষ্টজনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয় বিধানসভার অধ্যক্ষ থমাস এ সাংমা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও, মেঘলয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী প্রেস্টোন টিনসঙ ও স্নিয়াবহালাং ধার, সাংস স্যালেং এ সাংমা, রাজ্যের মন্ত্রীবর্গ, বিধায়ক এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ মেঘালয়ের উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সড়ক পরিকাঠামো অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মেঘালয়ে সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটছে, বলেন তিনি।

নীতিন জানান, মেঘালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫২,৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১,৬০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৯২টি জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৮২০ কিলোমিটার রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ৩১০ কিলোমিটারের কাজ চলছে এবং প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার প্রকল্প পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

গত কয়েক বছরে সম্পন্ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মেঘালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। শিলং-নংস্টইন-তুরা ট্রান্স মেঘালয় হাইওয়ের ফলে শিলং থেকে তুরায় যাত্রার সময় প্রায় ১২ ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় ৬ ঘণ্টা হয়েছে। জোড়াবাট-উমিয়াম চার লেন সড়ক, তুরা-ডালু সড়ক, জোয়াই-মালিডোর সড়ক এবং রানিকর-বাঘমারা সড়ক রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ উন্নত করেছে।

আজ উদ্বোধনকৃত ছয়টি জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ১১৭ কিলোমিটারের বেশি এবং ব্যয় হয়েছে ৩,২১৪ কোটি টাকার বেশি। জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গকৃত প্রকল্পগুলির মধ্যে শিলং-ডাউকি সড়ক প্রকল্পের প্যাকেজ-১ প্রায় ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে ৩৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্প শিলং, ডাউকি ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করবে এবং পর্যটন ও বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে।

১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জোয়াই বাইপাস প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে জোয়াই শহরের যানজট কমবে এবং সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

চারটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ১২৭বি নম্বর জাতীয় সড়ক এবং ২১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের তুরা বাইপাস প্রকল্পটি প্রায় ২৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে ৯৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে। এটি তুরা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার যানজট কমাবে এবং ডালুর আন্তর্জাতিক সীমান্তের দিকে দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।

১২৭বি নম্বর জাতীয় সড়কের দুর্গিরি-ফুলবাড়ি সেতু থেকে সেলসেলা-সিম্বুকলগ্রে (প্যাকেজ-১) অংশটি প্রায় ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে ৭৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে। ব্রহ্মপুত্রের ওপর নির্মীয়মাণ ধুবড়ি-ফুলবাড়ি সেতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এটি পশ্চিম গারোপাহাড় অঞ্চলের যোগাযোগ উন্নত করবে।

২০৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাইনুরসলা বাইপাস প্রকল্পটি প্রায় ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে ৫৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে। এটি পাইনুরসলা শহরের যানজট কমিয়ে ডাউকি, উমংগট নদী ও সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ উন্নত করবে।

সেলসেলা-সিম্বুকলগ্রে থেকে কৈরাগ্রে পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার অংশটি ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন করা হবে। এতে পশ্চিম গারোপাহাড় জেলায় পণ্য পরিবহণ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।

নীতিন গডকড়ি বলেন, নির্মীয়মাণ শিলং-ডাউকি করিডর বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করবে, আপার শিলংয়ের যানজট কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটনে বড় ভূমিকা নেবে।

তিনি জানান, উন্নত সড়ক যোগাযোগের ফলে দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা ও জরুরি পরিষেবার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি কৃষি পণ্য পরিবহণ, বাঁশ ও বেত শিল্প, এরি সিল্ক (রিন্ডিয়া) হ্যান্ডলুম এবং কালো মাটির শিল্পের মতো স্থানীয় জীবিকা আরও প্রসার লাভ করবে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চল সহ মেঘালয়ে দ্রুত, নিরাপদ ও বিশ্বমানের মহাসড়ক পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গডকড়ি শিলংঙের লারিতি পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার সামিট অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশ নেন। দুদিনের এই সম্মেলনে উত্তরপূর্ব ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিক, পর্যটন, ডিজিটাল যোগাযোগ, শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সম্মেলনে নীতিন গডকড়ি মেঘালয়ে প্রায় ৩৯,৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নতুন জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের শিলং-শিলচর গ্রিনফিল্ড করিডর উত্তরপূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হতে চলেছে। এটি শিলং ও শিলচরের মধ্যে যাত্রার সময় প্রায় ৫০ শতাংশ কমাবে এবং ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করবে।

৮,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ কিলোমিটার দীর্ঘ জোড়াবাট-বড়াপানি চার লেন গ্রিনফিল্ড করিডর গুয়াহাটি ও শিলঙের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ তৈরি করবে। এতে দুই শহরের যাত্রার সময় প্রায় আড়াই ঘণ্টা থেকে কমে এক ঘণ্টার কাছাকাছি হবে।

এছাড়া ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দারুগিরি-বাঘমারা-ডালু ২১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক প্রকল্প গারোপাহাড় অঞ্চল এবং বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ আরও উন্নত করবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গডকড়ি আশা প্রকাশ করেন, এ সমস্ত প্রকল্প মেঘালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande