
কলকাতা, ১৫ জুন (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, কেন্দ্র সরকার ‘ভিবি-জি রাম-জি’ (বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ) প্রকল্পের আওতায় রাজ্যকে ৮৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম থেকে রাজ্যব্যাপী জনকল্যাণ শিবির কর্মসূচির সূচনা করার সময় তিনি এই ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনেও রাজ্যের জন্য ২৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১০০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই জারি করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
নন্দীগ্রামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ১১০০টি জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ৫৪টি বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য এবং সুবিধা প্রদান করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের এটিই প্রথম ব্যাপক গণসংযোগ ও পরিষেবা প্রদান কর্মসূচি। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই শিবিরগুলিতে নাগরিকরা বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি নাম নথিভুক্তকরণের জন্যও আবেদন করতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এটা সুনিশ্চিত করতে চায় যেন কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা কেবল প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছায়। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে উপভোক্তাদের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ছিল এবং বহু ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারি অর্থ বণ্টন করা হয়েছিল।
তিনি জানান, সরকার উপভোক্তাদের তালিকাকে স্বচ্ছ করতে চায় যাতে সরকারি সাহায্য সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া উচিত নয় এবং সরকারি সহায়তা কেবল যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদেরই প্রদান করা উচিত।
কর্মসূচি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী জানান, জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত যোজনা–সহ ৫৪টি বিভিন্ন প্রকল্প সংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিবিরগুলিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভিবি-জি রাম-জি প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ পরিবারগুলিকে প্রতি বছর ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দেওয়া হবে। তিনি জানান, এই প্রকল্পটি মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইন (মনরেগা)-এর পরিবর্তে চালু করা হয়েছে এবং গ্রামীণ জীবিকাকে শক্তিশালী করার দিশায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মুখ্যমন্ত্রী আস্থা প্রকাশ করে বলেন যে, এই জনকল্যাণ শিবিরগুলির মাধ্যমে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সহজে পাবেন এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলির পরিধি ও প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি