বিরোধী দলনেতার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের, বুধবার হতে পারে রায়দান
কলকাতা, ১৬ জুন (হি. স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগ নিয়ে মঙ্গলবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানতে চেয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা যদি কারও নাম প্রস্তাব করেন
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়


কলকাতা, ১৬ জুন (হি. স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগ নিয়ে মঙ্গলবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানতে চেয়েছে, কোনও রাজনৈতিক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা যদি কারও নাম প্রস্তাব করেন, তবে বিধানসভার অধ্যক্ষ কি তা উপেক্ষা করে অন্য কোনও ব্যক্তিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিযুক্ত করতে পারেন?

অধ্যক্ষ কর্তৃক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। মামলাকারীদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু অধ্যক্ষ তা গ্রহণ করেননি।

শুনানি চলাকালীন অধ্যক্ষের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল যুক্তি দেন, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিস্থিতি ও তথ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং অধ্যক্ষের নিজস্ব ক্ষমতাবলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, অধ্যক্ষ এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের ‘শিবসেনা মামলা’-র রায়ের মূল ভাবনা অনুসরণ করেছেন।

পাল্টা জবাবে আদালত প্রশ্ন তোলে, যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা একজনের নাম প্রস্তাব করছেন, তখন অধ্যক্ষের কাছে সেই প্রস্তাব খারিজ করার কী ভিত্তি থাকতে পারে? একই দল থেকে যদি দু’টি ভিন্ন প্রস্তাব আসে, সেক্ষেত্রে অধ্যক্ষের সাংবিধানিক ও আইনি দায়বদ্ধতা কী, তাও জানতে চায় আদালত।

অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান, এই মামলায় গত ৬ মে এবং ১৯ মে-র দু’টি পৃথক প্রস্তাব সামনে এসেছিল। পাশাপাশি কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের কাছে জমা পড়া নথির বেশ কিছু স্বাক্ষর বিধানসভার আনুষ্ঠানিক নথির সঙ্গে মিলছিল না।

যদিও আদালত প্রশ্ন তোলে, অধ্যক্ষ যদি প্রথম প্রস্তাবটি পেয়েইছিলেন, তবে তিনি অবিলম্বে কোনও সিদ্ধান্ত কেন নিলেন না এবং পরবর্তীতে নিজেই কেন তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করলেন? যে প্রস্তাবের ভিত্তিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নিয়োগ করা হয়েছে, সেটি কোন গোষ্ঠী পেশ করেছিল, তাও জানতে চায় আদালত।

শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক রয়েছেন, তাই বিরোধী দলনেতা নিয়োগের ভিত্তি কী ছিল তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। স্বাক্ষর ও তারিখের বিতর্ক নিজের জায়গায় থাকলেও, অধ্যক্ষের কাছে আসা প্রস্তাবগুলির ওপর তাঁর সাংবিধানিক ভূমিকার আইনি পরীক্ষা হওয়া জরুরি।

মামলাকারীদের পক্ষে বরিষ্ঠ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আর্জি জানান। তিনি দাবি করেন, পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি বুধবার দুপুর ২টায় ধার্য করেছে। ওই দিনই এই বিষয়ে আদালতের রায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande