
কলকাতা, ১৭ জুন (হি. স.): কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং শিল্পায়ন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সোচ্চার হলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিনহা। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের তাৎপর্যও এই বৈঠক থেকে তুলে ধরেন তিনি।
রাহুল সিনহা দাবি করেন, সরকার পরিবর্তনের পর মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই পূর্ববর্তী সরকারের জমানার একাধিক দুর্নীতির খতিয়ান সামনে আসতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আবাসন যোজনা, সরকারি প্রকল্প এবং তোলাবাজির যে সমস্ত অভিযোগ উঠছিল, বর্তমান তদন্তের মাধ্যমে সেগুলির সত্যতা প্রমাণিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক আদায় করা কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হওয়া থেকেই পরিষ্কার যে, আগের সরকারের আমলে দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে ছড়িয়ে ছিল। অনুপ্রবেশের মারাত্মক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে এ রাজ্যের জনবিন্যাসের ভারসাম্য নষ্ট করার যে অভিযোগ বিজেপি এতদিন করে আসছিল, বিভিন্ন তদন্ত ও প্রশাসনিক তৎপরতায় আজ তা প্রমাণিত। তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটিতে নীতি, আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর অভাবের কারণে তা ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে এবং দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা দল ছাড়ছেন।
রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা জানান, বর্তমান সরকার পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের জন্য একটি অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তোলাবাজি এবং ‘কাট মানি’ সংস্কৃতি বন্ধ হওয়ায় শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ভরসা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যে কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলি পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
আগামী ২০ জুনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে রাহুল সিনহা বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ কোনও রাজনৈতিক দলের একার নয়, এটি সমগ্র রাজ্যের মানুষের দিন। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী ভূমিকার কারণেই পশ্চিমবঙ্গ আজ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকে রয়েছে। সেই কারণে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস, ২৩ জুন ড. মুখোপাধ্যায়ের বলিদান দিবস এবং ৬ জুলাই তাঁর জন্মজয়ন্তী রাজ্য জুড়ে পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা উচিত। পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন থেকে শুরু করে বিধানসভার গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সরকারি সামাজিক প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা—সব ক্ষেত্রেই সরকার কোনও রাজনৈতিক বৈষম্য না করে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি