অম্বুবাচি : কামাখ্যাধামে দেশ-বিদেশের প্ৰায় আট লক্ষ ভক্ত সমাবেশের আশা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে জানান মন্ত্ৰী অজন্তা
গুয়াহাটি, ১৭ জুন (হি.স.) : আগামী ২২ জুন থেকে গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরে অম্বুবাচি মেলা। অম্বুবাচি উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে সাধু-সন্ত ও ভক্তদের সমাগম শুরু হয়েছে কামাখ্যা ধামে। এবার প্রায় আট লক্ষ ভক্তের সমাগম আশা ক
অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্ৰী অজন্তা নেওগ


পাণ্ডু ফেরিঘাটে আবাসন শিবির পরিদর্শন মন্ত্ৰী অজন্তা নেওগের


গুয়াহাটি, ১৭ জুন (হি.স.) : আগামী ২২ জুন থেকে গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরে অম্বুবাচি মেলা। অম্বুবাচি উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে সাধু-সন্ত ও ভক্তদের সমাগম শুরু হয়েছে কামাখ্যা ধামে। এবার প্রায় আট লক্ষ ভক্তের সমাগম আশা করছে রাজ্য সরকার। তীর্থযাত্রীদের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি ব্যবস্থাপনায় সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, জানান পর্যটনমন্ত্রী অজন্তা নেওগ।

আজ বুধবার কামাখ্যায় অবস্থিত প্রশান্তি লজে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন অম্বুবাচি উপলক্ষ্যে প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের তথ্যা দিচ্ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী অজন্তা নেওগ। তিনি জানান, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের থাকার জন্য তিনটি বড় শিবির তৈরি করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য রাস্তা মেরামত ও পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রচারের জন্য পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেমের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

মন্ত্রী নেওগ জানান, মন্দির চত্বর ও আশপাশ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তাঁদের তীর্থযাত্রা নির্বিঘ্ন হয়।

জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে মেলা চলাকালীন খাদ্যের গুণমান ও নিরাপত্তার মান পর্যবেক্ষণের জন্য খাদ্য পরিদর্শকদের মোতায়েন করা হয়েছে। অসমের পর্যটন ক্ষেত্রের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী অজন্তা নেওগ জানান, এখন পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৮৫ লক্ষ দেশীয় পর্যটক এবং প্রায় ৪২ হাজার বিদেশি পর্যটক এসেছেন।

এদিকে, গুয়াহাটির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ট্রাফিক) জয়ন্তসারথি বরুয়া মেলার জন্য বিস্তারিত যান নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, জরুরি পরিষেবার গাড়ি ছাড়া কোনও যানবাহন নার্সারি পয়েন্টের পর আর যেতে পারবে না। খাদ্য সরবরাহকারী যানবাহনগুলোকে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫.০০টা পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

ভক্তদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য পাণ্ডু রুট এবং সোনারাম স্কুলের খেলার মাঠ থেকে ফেরি পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কামাখ্যা রেলওয়ে স্টেশন থেকে পাণ্ডু বন্দরের দিকে যাওয়া যানবাহন আদাবাড়ি হয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, জলুকবাড়ির দিক থেকে আগত যানবাহন ‘স্বাগত’ হাসপাতাল রুট দিয়ে যেতে পারবে না।

পাবলিক বাসগুলোকে ফ্লাইওভার ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে ফ্লাইওভারের নিচের সার্ভিস রোডে চলাচলের অনুমতি থাকবে না। প্রশাসন একাধিক পার্কিংয়ের স্থান নির্ধারণ করেছে। রাস্তার পাশে গাড়ি রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পর্যটন বিভাগের কমিশনার-সচিব দিগন্ত বরুয়া জানান, ভক্তরা সকাল ৫.০০টা থেকে সন্ধ্যা ৬.০০টা পর্যন্ত কামাখ্যা মন্দিরের দিকে যেতে পারবেন। তিনি আরও জানান, মদ্যপ বা মাদকাসক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মন্দিরের পবিত্রতা বজায় রাখতে জুতো বা স্যান্ডেল পরে কোনও ভক্তকে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের আগমনের সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসন আশা প্রকাশ করছে, বিস্তৃত এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অম্বুবাচি মেলা ২০২৬ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন হবে।

সাংবাদিক সম্মেলন শেষে মন্ত্রী অজন্তা ভক্তদের জন্য আবাসন, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা সহ বিভিন্ন ব্যবস্থার পর্যালোচনা করতে পাণ্ডু ফেরিঘাট, কামাখ্যা রেলওয়ে স্টেশন এবং নাহরবাড়ির আবাসন শিবিরগুলো পরিদর্শন করেছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande