মণিপুরে যৌথবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, ধরাশায়ী কুকি জঙ্গি
ইমফল, ১৭ জুন (হি.স.) : মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি’-র এক সন্দেহভাজন জঙ্গি ধরশায়ী হয়েছে। নিহতকে চূড়াচাঁদপুর জেলার বাসিন্দা লেনমিনসাং হাওকিপ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার মণিপুর
নিরাপত্তা বাহিনী_প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র


ইমফল, ১৭ জুন (হি.স.) : মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি’-র এক সন্দেহভাজন জঙ্গি ধরশায়ী হয়েছে। নিহতকে চূড়াচাঁদপুর জেলার বাসিন্দা লেনমিনসাং হাওকিপ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

আজ বুধবার মণিপুর পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানা গেছে, গতকাল ১৬ জুন বিকালে মোলফেই ও সংকং গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকজন জঙ্গি ডেরা পেতেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছিল আসাম রাইফেলস ও ভারতীয় সেনার যৌথবাহিনী।

বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে সন্দেহভাজন ‘ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি’-র সশস্ত্র ক্যাডাররা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তখন যৌথ বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে ব্যাপক গুলির লড়াই শুরু হয়। গুলির লড়াইয়ে একজন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, ম্যাগাজিন, গুলি, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য আপত্তিজনক সামগ্রী উদ্ধার করেছে বাহিনী।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য সশস্ত্র জঙ্গি ক্যাডারদের খুঁজে বের করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক তালাশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সংকং গ্রাম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকালে নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোন ও বোমার মাধ্যমে গ্রামে হামলা চালিয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে গুলি ছুঁড়েছে। গ্রাম কর্তৃপক্ষের দাবি, লেনমিনসাং হাওকিপ কোনও জঙ্গি ছিলেন না, তিনি একজন নিরীহ গ্রামবাসী ছিলেন। তাদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর তাঁর পোশাক পরিবর্তন করে সামরিক পোশাকের মতো করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কেউ জানতে পারেননি। এ ঘটনাকে সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা বলে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে গ্রাম কর্তৃপক্ষ।

এদিকে কুকি বিধায়ক লেটজামাং হাওকিপও এই হত্যার নিন্দা করে অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। আজ বুধবার এক বিবৃতিতে বিধায়ক বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহত ব্যক্তির পোশাক খুলে তাঁর দেহ নিয়ে যায়। পরে ঘটনাটিকে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার এবং আইনের শাসনের বড় লঙ্ঘন হবে। বিধায়ক অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেছেন, দ্রুত মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দিতে হবে, কোনও তথ্য গোপন বা প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করা যাবে না।

এদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইমফলে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে কোন হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে, তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

হি

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande