মুখরিত কামাখ্যাধাম, আর পাঁচদিন, অম্বুবাচি উপলক্ষ্যে ভিড় জমেছে সাধক-তান্ত্রিক-পুণ্যার্থীর
গুয়াহাটি, ১৬ জুন (হি.স.) : দেশের অন্যতম প্রাচীন শক্তিপীঠ কামাখ্যাধামে আসন্ন অম্বুবাচি মেলার প্রস্তুতি পর্ব শেষ পর্যায়ে। মাঝে আর হাতোগোনা পাঁচদিন। আগামী ২২ থেকে ২৬ জুন রাত পর্যন্ত গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত ঐতিহসিক কামাখ্যাধামে অনুষ্ঠেয় অম্বুব
কামাখ্যা মন্দিরে ভক্তকুলের ভিড় (ফাইল ফটো)


গুয়াহাটি, ১৬ জুন (হি.স.) : দেশের অন্যতম প্রাচীন শক্তিপীঠ কামাখ্যাধামে আসন্ন অম্বুবাচি মেলার প্রস্তুতি পর্ব শেষ পর্যায়ে। মাঝে আর হাতোগোনা পাঁচদিন। আগামী ২২ থেকে ২৬ জুন রাত পর্যন্ত গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত ঐতিহসিক কামাখ্যাধামে অনুষ্ঠেয় অম্বুবাচি মেলায় এবারও দেশ-বিদেশের ভক্ত-পুণ্যার্থীর জমায়েত হচ্ছে।

ইতিমধ্যে লক্ষাধিক ভক্ত-সাধু-সন্ত এসে জড়ো হয়েছেন কামাখ্যাধাম চত্বরে। ভারত ছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন প্ৰান্ত থেকে ভক্ত-পৰ্যটক, সাধু-সন্ন্যাসী এসে পৌঁছেছেন মা কামাখ্যাকে দর্শন করতে। নীলাচল পাহাড়ে কামাখ্যা মন্দিরের আনাচে-কানাচে ভিড় করেছেন নাগা সন্ন্যাসী সহ সাধক-তান্ত্রিকের বিক্ষিপ্ত দল। যে দিকে চোখ যায় সে দিকে সশরীরে নানা দেব-দেবীর পদচারণা, ভক্তদের মাথা স্পর্শ করে আশীর্বাদ বা নৃত্যের দৃশ্য। না, এঁরা স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করেননি। দেব-দেবীর সাজে সেজেছেন সাধু-সন্ন্যাসিনীরা। কেউ গায়ে ভস্ম মেখে শিব, তো কেউ নটরাজ, কেউ আবার কালী, নয়তো রাধা-কৃষ্ণ সেজে ভক্তদের আশার্বাদ দিচ্ছেন। আবার নিরালায় বহু তন্ত্রসাধক মগ্ন ধ্যানাসনে।

অম্বুবাচি প্ৰসঙ্গে মন্দিরের প্রধান দলই কবীন্দ্রপ্রসাদ শর্মা বলেন, আষাঢ় মাসের ৭ তারিখ মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদের সমাপ্তিতে ধরিত্রী মা রজঃস্বলা হন। ফলে জ্যোতিষ গণনা অনুসারে আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে ঋতুমতী হন ধরিত্রী। যেহেতু ঋতুমতী নারীরাই সন্তান ধারণে সক্ষম হন, তাই প্রতি বছরের মতো এবার অম্বুবাচির পর ধরিত্রীও সুফলা হয়ে উঠবে বলে মনে করা হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই এই অম্বুবাচি তিথি পালিত হয়। ভারতের একাধিক স্থানে অম্বুবাচী উৎসব, রজঃউৎসব নামেও পালিত হয়।

প্রধান দলই কবীন্দ্রপ্রসাদ শর্মা জানান, এ বছরের অম্বুবাচি তিথি ২২ জুন (৭ আষাঢ়) সোমবার রাত ৯টা ৮ মিনিটে শুরু হবে এবং ২৬ জুন পর্যন্ত চলবে। আর তিথির নিবৃত্তি হবে ২৬ জুন (১১ আষাঢ়) শুক্রবার রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে। নিবৃত্তি শেষে ২৭ জুন ভোরের দিকে বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিত্যপূজা সম্পন্ন হওয়ার পর মন্দিরের মূল কপাট ভক্ত-দর্শকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে, জানান প্রধান দলই কবীন্দ্রপ্রসাদ। তিনি জানান ইতিমধ্যে অম্বুবাচি মেলা কমিটি প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

প্রসঙ্গত, নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দিরে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এই চারদিনের উৎসব দেবী কামাখ্যার বার্ষিক ঋতুচক্রকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। চারদিনের এই উৎসবকে ‘পূর্ব ভারতের মহাকুম্ভ’ বলেও অভিহিত করা হয়। লোকবিশ্বাস, এই সময় দেবী কামাখ্যা ঋতুকালীন অবস্থায় থাকেন বলে মন্দিরের গর্ভগৃহ তিন দিন বন্ধ রাখা হয়। এই সময় ঐতিহ্য অনুযায়ী পূজা, রান্না এবং কৃষিকাজ বন্ধ রাখা হয়।

চতুর্থ দিনে মন্দিরের দরজা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। তখন দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত, সাধু, সন্ন্যাসী ও তীর্থযাত্রী দেবীর দর্শন করেন। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা এই আধ্যাত্মিক পরিবেশকে গভীর তৃপ্তিদায়ক বলে বর্ণনা করেছেন। হায়দরাবাদ থেকে আগত জনৈক ভক্ত জানান, তিনি এখানে এক অনন্য ইতিবাচক শক্তি ও অন্তরের শান্তির অনুভূতি পান। তাই বিগত কয়েক বছর ধরে অম্বুবাচির সময় আসেন তিনি.

হরিয়ানা থেকে আগত আরেক ভক্ত তাঁর কুটিরে বসে তাঁর আরাধ্যা ঈশ্বরের ধ্যান করছিলেন। তিনি বলেন, দেবীর দর্শন তাঁকে মানসিক শান্তি দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেবী কামাখ্যা সকল ভক্তকে আশীর্বাদ করবেন ও তাঁদের মনোবাসনা পূর্ণ করবেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande