
সুপৌল, ১৬ জুন (হি.স.) : ভারত-নেপাল সীমান্তে সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর তৎপরতায় সম্ভাব্য মানব পাচারের একটি চেষ্টার পর্দাফাঁস হল। সাত নেপালি নাবালককে শিশুশ্রমে নিযুক্ত করার উদ্দেশ্যে ভারতে আনা হচ্ছিল বলে সন্দেহ। তাদের উদ্ধার করেছে এসএসবি।
মঙ্গলবার জানা গিয়েছে, বীরপুরে মোতায়েন এসএসবি-র ৪৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা নিয়মিত তল্লাশি অভিযানের সময় ভীমনগর চেকপোস্ট এলাকায় সাত নাবালককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা নিজেদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কোনও অভিভাবকও ছিলেন না। শিশুদের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সন্দেহ আরও বাড়ে নিরাপত্তারক্ষীদের।
এরপর বিষয়টি অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিটের (এএইচটিইউ) নজরে আনা হলে শিশুদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, শিশুশ্রমে নিয়োগের উদ্দেশ্যে তাদের ভারতে নিয়ে আসা হচ্ছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরপর এসএসবি ও এএইচটিইউ যৌথভাবে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
উদ্ধার হওয়া শিশুদের পরিচয় মিলেছে সুরজ কুমার সাদা (১৬), রাহুল কুমার সাদা (১৫), ভোগিন্দর সাদা (১৪), রোশন কুমার (১৩), কিষাণ কুমার সাদা (১০), প্রবীণ সাদা (১০) এবং অরবিন্দ সাদা (৮) হিসেবে। তারা সকলেই নেপালের সপ্তরী জেলার বাসিন্দা।
সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সাত নাবালককে নিরাপদে নেপাল পুলিশের ভান্টাবাড়ি ইউনিটের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এসএসবি-র সহকারী উপ-পরিদর্শক চন্দন সিং, অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিটের সহকারী উপ-পরিদর্শক ভারত ভূষণ-সহ অন্যান্য জওয়ানরা।
এসএসবি-র ৪৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের দ্বিতীয়-ইন-কমান্ড ও ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট জগদীশ কুমার শর্মা জানিয়েছেন, মানব পাচার এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘটিত অপরাধ রুখতে এসএসবি সর্বদা সতর্ক ও সক্রিয়। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, কড়া তল্লাশি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস