সিআরপিএফ জওয়ানদের লাঠিচার্জ বিতর্কে ডিআইজি-র দ্বারস্থ প্রদেশ কংগ্রেস
আগরতলা, ১৬ জুন (হি.স.) : যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সিআরপিএফ জওয়ানদের লাঠিচার্জ এবং এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে অসভ্য ভাষা প্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ঘটনায় জড়িত সিআরপিএফ-র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট রা
সুদীপ রায় বর্মণ


আগরতলা, ১৬ জুন (হি.স.) : যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সিআরপিএফ জওয়ানদের লাঠিচার্জ এবং এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে অসভ্য ভাষা প্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ঘটনায় জড়িত সিআরপিএফ-র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট রাম কুমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মঙ্গলবার সিআরপিএফ-র ডিআইজির কাছে ডেপুটেশন প্রদান করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সিআরপিএফ-র ডিআইজি।

মঙ্গলবার শালবাগানস্থিত সিআরপিএফ-র ডিআইজির কার্যালয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডাব্লিউসি) সদস্য তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীল কমল সাহা-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল সোমবার আগরতলায় যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় সংঘটিত ঘটনাবলির বিস্তারিত বিবরণ ডিআইজি-র সামনে তুলে ধরেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের কোনও নির্দেশ ছাড়াই সিআরপিএফ-র জওয়ানরা আন্দোলনরত যুব কংগ্রেস কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ চালায়। পাশাপাশি অভিযুক্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন বলেও দাবি করা হয়।

কংগ্রেস নেতারা জানান, অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও ক্লিপিং এবং অন্যান্য প্রমাণ ডিআইজি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপির মাধ্যমে অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।

ডেপুটেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা জানান, ডিআইজি গোটা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যুবকদের উপর অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য তথা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “লাঠির আঘাত সহ্য করা যায়, শরীর থেকে রক্ত ঝরাও সহ্য করা যায়। কিন্তু মাতৃশক্তিকে লক্ষ্য করে যে ধরনের ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে, তা কোনও সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পশ্চিম থানার পুলিশ ও এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকলেও আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জের কোনও নির্দেশ তাঁরা দেননি। তা সত্ত্বেও সিআরপিএফ-র পক্ষ থেকে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই পশ্চিম আগরতলা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, কংগ্রেস নেতাদের দাবি অনুযায়ী, ত্রিপুরায় এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক দল সিআরপিএফ-র কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ডিআইজি-র কাছে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি জমা দিল।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande