একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার গোঘাটের তৃণমূল নেতা গিয়াসউদ্দিন খান
আরামবাগ, ১৬ জুন (হি. স.): গোঘাটের রাজনৈতিক অন্দরে আচমকাই বড়সড় শোরগোল। একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগে জর্জরিত শ্যামবাজার অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি গিয়াসউদ্দিন খানকে তাঁর নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করল গোঘাট থানার পুলিশ। দুর্নীতি, তোলাবাজি, মারধর, বাড়ি
গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান গিয়াসউদ্দিন খান


আরামবাগ, ১৬ জুন (হি. স.): গোঘাটের রাজনৈতিক অন্দরে আচমকাই বড়সড় শোরগোল। একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগে জর্জরিত শ্যামবাজার অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি গিয়াসউদ্দিন খানকে তাঁর নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করল গোঘাট থানার পুলিশ। দুর্নীতি, তোলাবাজি, মারধর, বাড়ি ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এই তৃণমূল নেতার গ্রেফতার ঘিরে সরগরম গোটা এলাকা।

​স্থানীয় সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ‘অপ্রতিরোধ্য প্রভাবশালী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন গিয়াসউদ্দিন খান। অভিযোগ, রাজনৈতিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় সাধারণ মানুষের ওপর দাপট দেখানো, বিরোধী মতকে দমন করা এবং এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করাই ছিল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু। যদিও এতদিন নানা অভিযোগ উঠলেও প্রকাশ্যে বড় কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে দাবি এলাকার একাংশের।

​বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় তাঁর নাম ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে আসে। বর্তমান শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী সময়ে বিরোধী সমর্থকদের ওপর একাধিক হামলা, বাড়ি ভাঙচুর, হুমকি, মারধর এবং এলাকা ছাড়া করার মতো ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকায় গিয়াসউদ্দিন খানের নাম বহুবার উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এতদিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই সমস্ত অভিযোগ চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলেছিল।

​তবে শুধু রাজনৈতিক সন্ত্রাস নয়, অভিযোগের তালিকায় রয়েছে শ্লীলতাহানি এবং তোলাবাজির মতো গুরুতর অপরাধও।

বস্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় বিভিন্ন কাজকর্ম, জমি সংক্রান্ত বিষয় বা সামাজিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও ‘অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ’ চালানো হত। বিরোধিতা করলেই মিলত হুমকি— এমন অভিযোগও সামনে এসেছে বলে সূত্রের খবর।

​অবশেষে অভিযোগের পাহাড়ের চাপে পুলিশের জালে ধরা পড়েন এই তৃণমূল নেতা। নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে আরামবাগ আদালতে পেশ করা হয়। এই হাজিরার সময় আদালত চত্বরে ছিল পুলিশের কড়া নজরদারি।

​এই গ্রেফতারির পর গোঘাটের রাজনৈতিক মহলে এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কি এতদিন ক্ষমতার আড়ালে চাপা পড়ে ছিল এই সমস্ত অভিযোগের স্তূপ? নাকি বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের জেরেই সামনে আসছে একের পর এক পুরনো অভিযোগ? যদিও এই গ্রেফতারের বিষয়ে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি। ফলে আগামীদিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA




 

 rajesh pande