মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম পাহাড় সফরে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক ঘোষণা
কার্শিয়াং, ১৬ জুন (হি. স.) : রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম পাহাড়ে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত একটি ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকে তিনি যেমন পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়
শুভেন্দু অধিকারী


কার্শিয়াং, ১৬ জুন (হি. স.) : রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম পাহাড়ে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের গোথালস গ্রাউন্ডে আয়োজিত একটি ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকে তিনি যেমন পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন, তেমনই পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে অতীতে বহুবার পাহাড় সফরে এলেও, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই প্রথম সফরটিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে পাহাড়ের সমস্ত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে যৌথভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই মঞ্চ থেকেই নিজের কাজের রূপরেখা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন পাহাড়ে তাঁর ভোট নেই, তাই তিনি কাজও করতেন না। তিনি স্রেফ পর্যটক হয়ে পাহাড়ে আসতেন এবং ঘুরে যেতেন। কিন্তু তিনি এখানে পর্যটক হিসেবে আসেননি, কাজ করতে এসেছেন। তিনি যা বলবেন, তা-ই করবেন— এটাই তাঁর অঙ্গীকার। একইসঙ্গে বিগত জমানার নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, পূর্বে পাহাড়ের জিটিএ-তেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, তবে তাঁর সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্য পুলিশে বড়সড় নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানান। পাহাড়ের বীর শহিদ সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, দেশ ভাঙার চক্রান্তের বিরুদ্ধে পাহাড়ের মানুষ সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

পাহাড়ের সার্বিক পরিকাঠামো খোলনলচে বদলে দিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান যে পাহাড়ের চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে কালিম্পঙে একটি নতুন মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষা পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন ও সরকারি ভর্তুকি বজায় রাখা হবে। খেলাধুলোর বিকাশে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে পাহাড়ে আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফলের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন আটকে থাকা সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবার পুরোদমে কার্যকর হবে। এর ফলে রাজ্যের প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন এবং ‘জিআরএমজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ মিলবে। দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পং— পাহাড়ের এই তিন বিধানসভা আসনই বর্তমানে বিজেপির দখলে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ের মানুষ যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা দিতেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এই রোডম্যাপ তৈরি করছে তাঁর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম সফর এবং একঝাঁক প্রতিশ্রুতি পাহাড়ের রাজনীতিতে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande