পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে বাড়ছে শিল্পপতিদের আগ্রহ, সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ৪২ জন উদ্যোক্তার : তাপস রায়
কলকাতা, ১৬ জুন (হি. স.): পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে শিল্প মহলে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত ৪২ জন শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি জানান, রাজ্য স
তাপস রায়


কলকাতা, ১৬ জুন (হি. স.): পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে শিল্প মহলে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত ৪২ জন শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ২২ জুন থেকে শুরু হতে চলা বাজেট অধিবেশনে শিল্প বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, শিল্প উন্নয়ন তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই বিষয়ে বিশেষ নজর রাখছেন।

রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র প্রথম সরকার গঠনের পর শিল্প ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকার নীতি আয়োগকে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ব্লুপ্রিন্ট বা খসড়া তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল। নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষ অশোক লাহিড়ীর নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাধীনতার সময়ে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি)-র নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প ও অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের কারণে রাজ্যটি এখন ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শ্রমিক সংগঠনগুলির অতি-সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইন-শৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের খামতি এই পতনের প্রধান কারণগুলির অন্যতম।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন বিজেপির তরফেও তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। দলের তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, ক্ষমতায় আসার পর তারা রাজ্যে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নকে নতুন গতি দেবে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকার সুবিধা পশ্চিমবঙ্গ পাবে।

এরই মধ্যে, আগামী ২২ জুন বিধানসভায় রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হবে। দুপুর ১২টায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এই বাজেট উপস্থাপন করবেন। শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটের ওপর স্বভাবতই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে।

মনে করা হচ্ছে, এই বাজেটে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উন্নয়ন এবং পরিকাঠামোগত বিস্তারের ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রণকৌশল সামনে আসতে পারে। সেই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়নের রূপরেখা ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের স্পষ্ট ঝলকও এই বাজেটে মিলতে পারে।

শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের মতে, রাজ্যে বিনিয়োগের প্রতি এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রমাণ করে যে, শিল্প মহল এখন পশ্চিমবঙ্গকে নতুন সুযোগের কেন্দ্র হিসেবে দেখছে। এখন সকলের নজর বাজেট ঘোষণার দিকে, যেখান থেকে বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়ন নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা স্পষ্ট হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande